আজারবাইজানে পরমাণু হামলার হুমকি আর্মেনিয়ার

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের দখলদারিত্ব নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষ ক্রমেই যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে আর্মেনিয়া। এদিকে আজারবাইজানের হয়ে লড়তে ককেশাস পর্বতে পাকিস্তান সেনা জড়ো করছে বলে শোনা যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বিগ্ন ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘এমন ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। ভারত মনে করে, দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সংযম বজায় রাখতে হবে। সংঘর্ষ থেকে বিরত হয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।’

গত রবিবার রাতে আজারবাইজান সেনা নাগোরনো-কারাবাখ সংলগ্ন আর্মেনিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের দখল নিতে অভিযান চালায়। তাদের প্রতিরোধ করে সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আর্মেনীয় বাসিন্দাদের মিলিশিয়া বাহিনী ‘আর্টসাক ডিফেন্স আর্মি’। এরপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আর্মেনিয়া ফৌজও। গত ছয় দিনের লড়াইয়ে দুইপক্ষের বেশ কিছু ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। দুইপক্ষের কয়েকশ সেনার পাশাপাশি বহু অসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। আর্মেনিয়া হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্রবাহী দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দুই প্রজাতন্ত্রের লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই জড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ। আজারবাইজানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। অন্যদিকে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ আর্মেনিয়ার প্রতি ঝুঁকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়া। আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দ্বন্দ্বে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার জন্য ন্যাটো ও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের পার্লামেন্টে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘অবিলম্বে সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর করে নাগোরনো-কারাবাখসহ অধিকৃত এলাকাগুলো থেকে আর্মেনীয় সেনাকে সরতে হবে।’

আর্মেনিয়ার মদদপুষ্ট ‘আর্টসাক ডিফেন্স আর্মি’ স্বীকার করেছে, নাগোরনো-কারাবাখের কিছু অংশ দখল করেছে আজারবাইজান ফৌজ। এক টেলিফোন কথোপকথনের সূত্র ধরে আর্মেনিয়ার সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, আজারবাইজানের হয়ে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে পাকিস্তানের সেনা। অডিও ক্লিপে আজারবাইজানের দুই ব্যক্তিকে পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, সত্তরের দশকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের সময় আরব জোটের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে ইসরায়েলবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল পাক ফৌজ।