সলোমন আইল্যান্ডে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত

করোনাভাইরাস মুক্ত থাকার লড়াইয়ে অবশেষে হার মানল সলোমন আইল্যান্ডস। প্রথমবারের মতো কভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর খবর এসেছে ওসিয়ানিয়া অঞ্চলের দ্বীপ দেশটি থেকে।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্তের খবর নিশ্চিত করেছেন সলোমনের প্রধানমন্ত্রী মানাসেহ সোগাভারে। জানান, ফিলিপাইন থেকে ফেরা এক শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আরও ৯৬ জন যাত্রীর সঙ্গে বিমানে করে দেশে ফিরেছিলেন ওই শিক্ষার্থী।

সোগাভারে বলেন, “এটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে যে, করোনা মহামারি দেশে প্রবেশে বাধা দিতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমরা কভিড-১৯ মুক্ত থাকার অর্জন হারিয়ে ফেলেছি।”

বিষয়টি নিয়ে দেশের ৬ লাখ জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রুখতে কন্টাক্ট ট্রেসিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, বিমানে ওঠার আগে ফিলিপাইনে ওই শিক্ষার্থীকে তিনবার করোনাভাইরাস টেস্ট করা হয়েছে। তিনবারই তার রিপোর্ট এসেছিল নেগেটিভ। কিন্তু সলোমনে পৌঁছার পর রাজধানী হোনিয়ারায় তার করোনা টেস্ট করা হলে তাতে রিপোর্ট আসে পজিটিভ। ওই শিক্ষার্থীকে এখন আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফিলিপাইনে যারা ছিল তাদের মধ্যে আরও ১৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং তাদের ম্যানিলায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে বিমান চলাচল ও সীমান্ত বন্ধ করে দেয় সলোমন সরকার। দেশটির চারশোর বেশি শিক্ষার্থী ফিলিপাইনে আটকে আছে। ইউরোপের ওই দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ব্যাপক।

শিক্ষার্থীদের চাপে সলোমন সরকার ফিলিপাইনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়।শিক্ষার্থীদের প্রথম ফ্লাইটটি আসে গত মঙ্গলবার।

এদের মধ্যে একজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেলেও শিক্ষার্থীদের সবাইকে দেশে ফেরানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সোগাভারে।

সলোমন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে মুক্ত থাকা দেশ বা অঞ্চলের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯টি। দেশ বা অঞ্চলগুলো হলো: কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ, সামোয়া, টোঙ্গা, টুভ্যালু ও ভানুয়াতু।