কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের পূর্ব অংশের পাহাড়ি এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক বারবাকিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের নামে রয়েছে অন্তত ৩৩টি মামলা। তার ভয়ে তটস্থ থাকে এলাকাবাসী। পাহাড়ি এই এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ তার কাছে জিম্মি।
চুরি-ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, পুলিশের ওপর হামলা, নারী নির্যাতন, স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি, বন নিধনসহ বিভিন্ন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম কয়েকবার কারাভোগও করেছেন। আট মাস আগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে আরও বেড়েছে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি।
জাহাঙ্গীর আলমের (৩৬) বাড়ি পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামে। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পেকুয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতার অত্যাচার নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অনেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালীর আনছার উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পেকুয়া থানায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গত ২৮ জুলাই একটি মামলা হয়। সবশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর আলমসহ চারজনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন তার ছোট ভাই আলমগীরের শাশুড়ি মর্তুজা বেগম।
পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ি দুই ইউনিয়ন টইটং ও বারবাকিয়ার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হয়। জাহাঙ্গীরের নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে তারা কেঁদে ওঠেন। স্থানীয়রা জানান, সাত থেকে আট বছর ধরে বারবাকিয়া ও টইটংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে গভীর জঙ্গলে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা আস্তানা গড়ে পাহাড়ের বাসিন্দাদের জিম্মি করে অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে আসছে। দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বাধীন ৫০-৬০ সন্ত্রাসী।
টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম বলেন, পেকুয়ার পাহাড়ে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্দেশমতে সবকিছু চলে।
পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, কেউ প্রতিবাদ করলে গভীর রাতে বা দিনদুপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গিয়ে ওই ব্যক্তির বসতঘরে হামলা করে, বাড়ির নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ওই এলাকার ১০টি গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী এ সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার নামে করা মামলাগুলো ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা মামলা করিয়েছে।’
জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বনদস্যু জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। পুলিশ কোনো আসামিকে ছাড় দেবে না। পেকুয়ার পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।