স্পর্শের অভাবে স্বাস্থ্য সংকট চরমে

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণ মানুষের মধ্যে স্পর্শ করার অনুভূতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। মানুষকে এখন একে অন্যকে স্পর্শ করার আগে কয়েকবার ভাবতে হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে স্পর্শ হয়ে গেলেও জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিচ্ছন্ন করার মানসিক টানাপড়েনও আছে। এমন বহু মানুষ আছেন যারা গত ছয় মাসে একবারের জন্যও কারও সঙ্গে করমর্দন করেননি। অথচ মানুষে মানুষে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পর্শানুভূতি।

মহামারী এমন সংকট তৈরি করেছে যে, পরিবারের মধ্যেও একে অপরকে স্পর্শ করতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হচ্ছে মানুষকে। বিবিসি রেডিও ফোর ও ওয়েলকাম কালেকশনের যৌথ এক গবেষণায় স্পর্শানুভূতির অনেকগুলো দিক উঠে এসেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকদল মানুষের মনস্তাত্বিক স্পর্শের চাহিদা যে পরিচিত বা অপরিচিত যেই হোক, এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। লন্ডনের গোল্ডস্মিথস ইউনিভার্সিটির মনস্তত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল বানিসসি এই গবেষকদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় ১১২টি দেশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ অংশ নেয়।

দ্য টাচ টেস্ট নামের এই জরিপে দেখা যায়, মানুষে মানুষে স্পর্শের ক্ষেত্রে সামাজিক সংস্কৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে বড় কোনো ঘটনা বা সাংস্কৃতিক নতুনত্বের কারণে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক ব্যক্তিই বলেছেন, তাদের সারা জীবনে অপরিচিতের স্পর্শ পাননি বলেই চলে। আর ৪২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা পরিচিত ও অপরিচিত উভয় মানুষের স্পর্শই পেয়ে থাকেন। তবে ৪৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, স্পর্শের ক্ষেত্রে সমাজ প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি ২৬ শতাংশ মনে করেন, সমাজ তাদের স্পর্শের স্বাধীনতা দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা হরহামেশাই মানুষের সংস্পর্শে আসেন তাদের মধ্যে ইতিবাচক দিক বেশি এবং সুস্বাস্থ্যের বিষয়টিও ভালো থাকে। আর স্পর্শের বাইরে থাকা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ছাড়াও মনস্তাত্বিক পরিবর্তন হয়। যারা মনে করেন সমাজ তাদের ব্যক্তি মানুষকে স্পর্শের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয় না, তাদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তারা স্পর্শের ক্ষেত্রে বিপরীতের মানুষটির সম্মতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। সম্মতিহীন স্পর্শ অনেক সময় সামাজিক অশান্তি বয়ে আনতে পারে।