ভালো কাজ নিয়ে কথা বলে না দর্শক

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া নিয়মিত খন্ড নাটকের কাজ করছেন। আজ এনটিভিতে প্রচার হবে তার অভিনীত নতুন নাটক ‘বেসামাল’। এই নাটক ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

‘বেসামাল’...

‘বেসামাল’ নাটকটি করেছিলাম ঈদের আগে লকডাউন শিথিল হওয়ার পরপরই। নাটকটির অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে বলব, খুব ভয়ে ভয়ে কাজটি করেছিলাম। লকডাউনের পর এটিই ছিল ইরফান সাজ্জাদের প্রথম কাজ। আমি তার আগে আরও দুই তিনটি কাজ করেছিলাম। তবে আমরা দুজনই ভয় পাচ্ছিলাম মাসুম বাশারকে নিয়ে। আমাদের বয়স কম, তাই করোনা আক্রান্ত হলেও ঝুঁকিটা কম, কিন্তু তিনি বয়স্ক মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিনি আমার পরিবারের মানুষের মতো। নিজের বাবা ছাড়া শুধু তাকেই আমি পাপা বলে ডাকি। এজন্য তাকে নিয়ে চিন্তা বেশি ছিল। নাটকটিকে আমি আর ইরফান সাজ্জাদ নবদম্পতি। দুজনেই চাকরিজীবী। হুট করে একদিন গাড়ির সামনে এক বৃদ্ধ পড়ে যায়। সেই বৃদ্ধ ইরফানের গ্রাম থেকে আসা এক দুঃসম্পর্কের দাদা। তাদের সারপ্রাইজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে এসেছেন। শুরু হয় একের পর এক দুর্ঘটনা, ভুল বোঝাবুঝি। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। সরদার রোকনের পরিচালনায় এ নাটকটি আজ রাত সাড়ে ৯টায় এনটিভিতে প্রচার হবে।

করোনা পাশে রেখে...

করোনা পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটা সহজে আমাদের ছাড়বে না। জানি আজ হোক, কাল হোক আমিও আক্রান্ত হব, কিন্তু তারপরও কাজ তো করতেই হবে। আর কতদিন বসে থাকব? তাই করোনা ভীতিকে পাশে রেখেই কাজ করছি। আমি এখন খ- নাটকই বেশি করছি। এছাড়া সম্প্রতি ‘ইনফিনিটি’ নামে একটি ওয়েব সিরিজ করেছিলাম। আমার বিপরীতে আছেন শরিফুল রাজ। সেটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বিঞ্জ’-এ দেখা যাচ্ছে এখন।

ওয়েব সিরিজ বিতর্ক...

কিছুদিন আগে কয়েকটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। এতদিন তা নিয়ে আমি কোনো কথাই বলিনি। বুঝতে চেষ্টা করছিলাম আসলে ঘটনাটা কী? তবে ‘ইনফিনিটি’ ওয়েব সিরিজটি করার পর আমার অবশ্যই কিছু বলার আছে। এটি স্পেশাল এজেন্টদের একটি মিশনের গল্প নিয়ে নির্মিত। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে কাজটি করেছি। দারুণ একটি গল্প, নির্মাণশৈলী সবকিছুই খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু সিরিজটি থেকে সেভাবে কোনো সাড়াই পেলাম না! অথচ এখানে আমি যদি ছোট একটি কাপড় পরে জলকেলি করতাম বা কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতাম তখন সমালোচনার চোটে ঘর থেকে বেরুনো দায় হয়ে পড়ত। এখন আমার মনে হচ্ছে, দর্শক আসলে ভালো কাজের অ্যাপ্রিসিয়েশন করতেই ভুলে গেছে। তারা ওই যৌন দৃশ্যই দেখে, হোক সেটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বা ভিপিএন ডাউনলোড করে। আবার সেই দর্শকই তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সোরগোল তোলে, দেশ গেল সংস্কৃতি গেল বলে!