ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে ভূমিকা রাখায় বিশ^খাদ্য কর্মসূচি পেল এবারের শান্তির নোবেল। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ১০১তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জাতিসংঘের এ সংস্থার নাম ঘোষণা করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। শান্তিতে নোবেলজয়ীকে নির্বাচনের দায়িত্ব নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির। সব নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোম থেকে ঘোষণা দেওয়া হলেও শান্তি পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া হয় নরওয়ের অসলো থেকে। কাজটি আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ীই করা হয়।
শান্তিতে নোবেল জয়ের কারণে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থাটি পাবে মোট ১০ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যন বেরিট রেইস অ্যান্ডারসন বলেন, আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান। ক্ষুধামুক্তির লড়াই, যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা এবং যুদ্ধ ও সংঘাতে অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধাকে ব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিশ^খাদ্য কর্মসূচিকে শান্তিতে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নোবেল জয়ের খবরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ^খাদ্য কর্মসূচি টুইট করে বলেছে, বিশ^জুড়ে প্রতিদিন ১০ কোটির বেশি শিশু, নারী আর পুরুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে জীবন উৎসর্গ করেছেন ডব্লিউএফপির কর্মীরা। এই পুরস্কারে তাদের কাজ স্বীকৃতি পেল।
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২১১ জন ব্যক্তি এবং ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম জমা পড়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পরিবেশ আন্দোলনে নজরকাড়া সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের নামও সেই তালিকায় ছিল। ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও।
সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা অনুসারে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী।
এমনিতে প্রতি বছর স্টকহোমে অনুষ্ঠান করে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। সেখানে তারা বক্তৃতাও দেন।
তবে এবার করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে রাজকীয় সেই আয়োজন থাকছে না। তার বদলে নোবেলজয়ীরা নিজের দেশে বসে ওয়েবিনারে অংশ নেবেন নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণীতে তাদের স্টকহোমে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে।