চাঁদপুরে পৌর নির্বাচন চলাকালে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে যুবক খুন

চাঁদপুর পৌর নির্বাচন চলাকালে ভোট কেন্দ্রের বাইরে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে শহরের গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

নিহত ইয়াসিন মোল্লা (১৯) শহরের কোড়ালিয়া এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল ইয়াসিন। সে শহরের একটি টেইলার্সের দোকানে কাজ করত।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাহাদাতসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শহরের ৮নং ওয়ার্ডের গনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিনিয়র-জুনিয়র বিতর্কে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপ। একপর্যায়ে এক পক্ষ ধারালো ছুরি দিয়ে ইয়াসিনের গলায় আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ঢাকায় নেয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

কোড়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দুই দল যুবকের মাঝে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দেখে আমরা তাদেরকে সরিয়ে দিই এবং ঝগড়া থেকে বিরত থাকতে বলি। আমরা সেখান থেকে সরে আসার পর হঠাৎ এক যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসিনের গলা লক্ষ্য করে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। দ্রুত তাকে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

একই এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ভোটের দিন এ ধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত। দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

নিহত ইয়াছিনের ছোট ভাই হৃদয় বলেন, আমরা নির্বাচনের দিন সকাল বেলা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হই। পূর্ব থেকে সাহাদাতের সাথে আমার বড় ভাই ইয়াসিনের সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। সাহাদাত যেন আমাদের না দেখতে পায় তাই কেন্দ্রের বাইরে লুকিয়ে ছিলাম। কিন্তু এক সময় সাহাতাদ আমাদের দেখে ফেলে এবং আমার ভাইয়ের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে ঢাকা নেওয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

ইয়াছিনের বাবা হারুন মোল্লা বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করি। আমার ছেলের এমন মৃত্যু কখনই কাম্য ছিল না।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এ এইচ এম সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ইয়াসিনকে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় রেফার করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ভোট চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে হঠাৎ এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. নাছিম উদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় নিহত ইয়াসিনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।