মন্দিরে চেয়ারম্যানের তালা, বন্ধ পূজা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মন্দির দখল করে তালা লাগিয়ে পূজা-অর্চনা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া পূর্ব নওদাবাস কালীবাড়ি রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ফটকে এক মাসের বেশি সময় আগে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে মন্দিরে প্রবেশ ও পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এলাকার সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৩ অক্টোবর হাতীবান্ধা থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মন্দিরটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব নওদাবাস কালীবাড়ি রাধা গোবিন্দ মন্দিরের বর্তমান সভাপতি মানিক চন্দ্র বর্মণ ও সম্পাদক কংকন চন্দ্র বর্মণের মধ্যে গত ২৯ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র বর্মণের বাড়িতে তার নবজাতকের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে গত ৫ আগস্ট নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এরপর থেকে ওই মন্দিরে স্বাভাবিকভাবেই পূজা-অর্চনা চালিয়ে আসছিল পূজারীরা। কিন্তু গত ২৬ আগস্ট হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এসে মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তখন থেকেই মন্দিরটি বন্ধ রয়েছে।

পূর্ব নওদাবাস কালীবাড়ি রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি মানিক চন্দ্র বর্মণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এক মাসেরও বেশি সময় আগে মন্দিরে তালা লাগিয়ে দেয়। তখন থেকে মন্দিরটি বন্ধ রয়েছে। আমরা পূজা-অর্চনা করতে পারছি না।

মন্দির বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্দির প্রকৃতপক্ষে বন্ধ নেই। আর আমি কেন মন্দির বন্ধ করে দেব। এটি নিয়ে নিশ্চয় কোনো রাজনীতি হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, মন্দির কমিটির কাছ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন ইউএনও স্যার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন পরই দুর্গাপূজা। সে কারণে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটিকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।