গণপিটুনি নয়, পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে পরিবারের দাবি

সিলেট নগরীতে রায়হান আহমদ (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, একাধিক মামলার আসামি রায়হান গণপিটুনিতে মারা গেছে।

অন্যদিকে রায়হানের পরিবারের দাবি, ১০ হাজার টাকা না দেওয়ায় পুলিশই রায়হানকে পিটিয়ে মেরেছে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে রবিবার বিকেলে সিলেটের আখালিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রায়হানের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন।

পরে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনা তদন্তর আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। নিহত রায়হান সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, রবিবার সকালে কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাইর প্রস্তুতিকালে রায়হানকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জ্যোতির্ময় সরকার জানান, নিহত রায়হানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুইটি মামলা রয়েছে। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, কীভাবে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুলল্লাহ জানান, রায়হান নগরীর রিকাবীবাজারে স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্‌ফারের চেম্বারে চাকরি করতেন। রায়হান বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। গত শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রায়হানের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে ভোর রাত ৪টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, তাকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর রায়হানের মা তার চাচা হাবিবুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান।

এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, আপনি ৫ হাজার এনেছেন কেন, এখন চলে যান, রায়হান ঘুমাচ্ছে। এ ছাড়া রায়হানকে যে কর্মকর্তা ধরে এনেছেন তিনিও এখন ফাঁড়িতে নেই। সকাল ৯টার দিকে আসবেন।’ তার কথামতো হাবিবুল্লাহ সকাল ৯টার সময় আবার ফাঁড়িতে যান।

এ সময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তখন হাবিবুল্লাহ দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান। ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

রায়হানের মা আহাজারি করে বলেন, ‘পুলিশই আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরেছে। আমি এর বিচার চাই।’   

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে থানায় এখনো কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।