বৃক্কের যত্ন

আমাদের দেহে বৃক্কের সংখ্যা দুটি, যা দেহে পানি ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নানা রকম দূষিত পদার্থও শরীর থেকে ছেঁকে পৃথক করে ফেলে। তাই আমাদের সুস্থ থাকার জন্যই বৃক্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্কের সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য দৈনিক দু-তিন লিটার পানি পান করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায় এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাদ্য যেমন ফাস্টফুড, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। কারণ, খাবারে অতিরিক্ত লবণ দেওয়া বা খাবারের সঙ্গে আলাদা করে লবণ খাওয়া বৃক্কের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি উচ্চ রক্তচাপও বয়ে নিয়ে আসে।

ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে বৃক্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ফলে বৃক্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি ‘ডি’-ডায়েট, ড্রাগ ও ডিসিপ্লিন মেনে চলুন। নিয়মিত রক্তে শর্করার পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেন। কোমলপানীয় বা বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ড্রিংকসও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই সুস্থ থাকতে এগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ ক্রমাগত ১৪০/৯০ মি.মি. (পারদ)-এর বেশি থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়। তাই ডায়াবেটিসের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ওষুধ সেবনে সতর্ক হতে হবে।

দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করে থাকা প্রাত্যহিক সমস্যাগুলোর একটি। বিশেষত পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাবে শহরাঞ্চলের নারীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। দীর্ঘক্ষণ মূত্রাশয় পূর্ণ করে রাখা শরীরে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পেশির ওপর চাপ থেকে ডাইভারটিকিউলোসিসের মতো জটিল রোগ হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করা থেকে হাইড্রোনেফ্রোসিস বা কিডনিতে প্রস্রাবের চাপ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। এসব থেকেই কিডনি কর্মক্ষমতা হারায় এবং ডায়ালাইসিস প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তাই কিডনির সুস্থতার জন্য দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

কোনো কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে সে ক্ষেত্রে লাল মাংস বেশি খাওয়া ঠিক নয়। বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কিডনির ওপর তখন অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কিডনির সমস্যা না থাকলে বা চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে এমন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে তেমন বাধা নেই।

রাত জেগে থাকা বা সময়মতো ঘুমাতে না পারা আমাদের অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ঘুম শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময়ই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর টিস্যু নবায়ন ঘটে। ফলে নিয়মিত অনিদ্রা চলতে থাকলে কিডনিসহ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর এই কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে কিডনির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যায়। তাই নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম কিডনির সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।