পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ বলেছেন, ‘জনগণের লড়াইয়ের মুখে ইমরান খানের সরকার টিকতে পারবে না।’
দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, একটি প্রাইভেট চ্যানেলে এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট।
নওয়াজ শরিফের পক্ষ নিয়ে জনগণ ‘অযোগ্য ও অক্ষম’ প্রধানমন্ত্রীর পতন ঘটাবে বলেও মরিয়ম জানান।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জানুয়ারির আগেই ইমরান খান সরকারকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’
এদিকে ১৬ অক্টোবর পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালাতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে পিএমএল-এন। দলটির তথ্য সম্পাদক মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানান, পুরো শহরের মানুষ সমাবেশটিতে অংশ নেবে।
তিনি বলেন, ‘ইমরান খান সরকারের ক্ষমতা নেই এ সমাবেশে বাধা দেয়ার। এ সরকারের চিনি, ময়দা, ওষুধ, জ্বালানি চুরি ও লুটপাটের সমাধান হবে এ সমাবেশে।’
এদিকে নওয়াজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেছে পাকিস্তানের পুলিশ।
সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্য করায় গত সপ্তাহে লাহোরের একটি পুলিশ স্টেশনে পিএমএল-এন দলের ৪৪ নেতার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হয় বলে জানায় ডন।
এক বছরেরও বেশি সময় পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন নওয়াজ শরিফ।
লন্ডন থেকে ভিডিও লিংকে যুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধে যারা ইমরান খানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে আর যারা তার মতো এক অযোগ্য ব্যক্তিকে ক্ষমতায় আনতে নির্বাচনে জালিয়াতি করেছে এবং এভাবে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান নওয়াজ শরিফ।
তার আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে পাকিস্তানে ফিরতে আট সপ্তাহ সময় দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি ফিরতে ব্যর্থ হন। তারপর থেকে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকেন।