আশুলিয়ায় নিখোঁজের দুদিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার

সাভারের আশুলিয়ায় নিখোঁজের দুদিন পর বাড়ির পাশেই একটি গলি থেকে আসিফ খাঁ নামে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার পূর্ব কলতাসুতি এলাকায় ভাড়া বাসার পাশে একটি গলি থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী শিশুর সঙ্গে গণ্ডগোলের জেরে আসিফকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

 মোহাম্মদ আসিফ খাঁ (৮) শিমুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কলতাসুতি গ্রামের জুয়েল খাঁর ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে ভাড়াবাড়িতে থেকে স্থানীয় দি হোম ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। তার বাবা জুয়েল খাঁ পরিবহন চালক ও মা গৃহিণী। ভাই-বোনের মধ্যে আসিফ ছোট।

নিহতের বাবা জুয়েল খাঁ জানান, গত ১১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার স্ত্রী বাড়ির পাশে দোকানে যান। এর দশ মিনিট পর মায়ের পেছনে পেছনে বাইরে যায় ছেলে আসিফ। পথে অপরিচিত দুই যুবক বাড়ি থেকে ৬শ গজ দূরে রাস্তায় তার ছেলেকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখেছিলেন পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়া নারী, যা তারা পরে জানতে পারেন।

এর আগে অনেক খোঁজ করেও আসিফের সন্ধান না পাওয়ায় ১১ অক্টোবর রাতে আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে তাদের বাড়ির পাশের একটি শ্রমিক কলোনির গলিতে ছেলে আসিফের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

জুয়েল খাঁ অভিযোগ করেন, এক মাস আগে ছেলে আসিফ পাশের বাসার রফিকুল নামে মুদি দোকানির ছেলের সঙ্গে খেলতে যায়। সেখানে দুই শিশু গণ্ডগোল করলে ক্ষোভ থেকে যায় রফিকুলের। এরই জেরে রফিকুল তার ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ জুয়েল খাঁর। এছাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার পরও পুলিশ তার ছেলেকে খুঁজতে কোনো তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জুয়েল খাঁ।

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদশর্ক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদ‡ন্তর জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই শিশুকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশটি বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেশী রফিকুল নামে এক মুদি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

ডায়েরি করার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি পুলিশ সার্বক্ষণিক খোঁজখবরও রেখেছিল। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।