ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ অস্বীকার ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারীর

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক বিনিয়োগকারী ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া তার ব্যক্তিগত সহকারী টেরেস ডেভোন হাসপিল ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের কথা অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্কাইপে আয়োজিত শুনানিতে ম্যানহাটনের স্টেট কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি ২১ বছর বয়সী হাসপিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলে বিচারকের কাছে তিনি ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের কথা অস্বীকার করেন।

এর আগে গত ১৮ জুলাই তাকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারে অভিযুক্ত করা হয়। সেই অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছিলেন।

‘ইচ্ছাকৃত এবং প্ররোচিত; কিন্তু পরিকল্পিত নয়’- এমন হত্যাকাণ্ডকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার বলে। কথা কাটাকাটি কিংবা রাগের বশে যে হত্যাকাণ্ড হয়, তাকেই সাধারণত সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের কাতারে ফেলা হয়। আর পরিকল্পিত খুনকে বলা হয় ফার্স্ট ডিগ্রি, যেখানে খুনি তার টার্গেটকে অনুসরণ করে ক্রাইম সিনে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে নিজের বিলাসবহুল বাসায় ১৩ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে খুন হন ফাহিম।

ময়নাতদন্তে বলা হয়, একাধিক কোপের পর তার মৃত্যু হয়েছে।

ফাহিম প্রযুক্তি জগতে নিজের পথচলা শুরু করেন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঠাওয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

খুন হওয়ার দিন দুপুর দেড়টার দিকে সিসিটিভিতে ফাহিমকে সর্বশেষ দেখা যায়। ওই সময় একটি ব্যাগ হাতে সন্দেহভাজনকেও দেখা যায়। তারা লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ফাহিম কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে খুনির দিকে তাকান। এরপর লিফটে দুজন একসঙ্গে উঠে যান। ফাহিম সাত-তলায় নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকতে গেলেই তাকে আক্রমণ করে খুনি।

বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে তাকে কাটা হয়। করাতটি পাশেই পড়ে ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশ ভরা ছিল একটি ব্যাগে।

হাসপিল ফাহিমের থেকে অনেক ডলার ধার নেয়ার পাশাপাশি চুরিও করেন। তবু ফাহিম তাকে ক্ষমা করে অর্থ ফেরতের সুযোগ দেন।

হাসপিলের আইনজীবী নেভিল মিচেল সিএনএনকে বলেছেন, ‘আমরা সবকিছু দিয়ে এখানে লড়ছি। এই তরুণ আদৌ ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি না, সেটি বলার সময় আসেনি।’

হাসপিলের দাবিকে তিনি ‘জোরালো’ বলে মন্তব্য করেছেন, ‘এটি একটি জোরালো দাবি হতে যাচ্ছে। আমরা এখনো অনেক কিছু তদন্ত করছি। তাই এখনো কেস লড়তে প্রস্তুত হয়ে পারিনি। কিন্তু তার দাবিটা জোরালো।’

নেভিল জানিয়েছেন, মামলাটি ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।