ইউএনও লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঠিক নয়: বরখাস্ত হওয়া বেড়া পৌর মেয়র

উন্নয়ন সমন্বয় সভায় পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীর সঙ্গে বাদানুবাদ হলেও তাকে লাঞ্ছিত করেননি বলে দাবি বেড়া পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনের।

বুধবার দুপুরে বেড়া পৌরসভা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এ দাবি করেন তিনি।

বেড়া উন্নয়ন ফোরামের আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, ১২ অক্টোবর উপজেলা সমন্বয় সভায় ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে তা সঠিক নয়। সেদিন তিনি শুধু উপজেলার উন্নয়নে ঘাট ইজারার টাকা নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ইউএনওকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসক বা ইউএনও কারো সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি নেই। এ ইস্যুটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হয়েছে।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসকের প্রতি গত ৪ বছরের বেড়া উপজেলার ইজারাকৃত অর্থ উপজেলার উন্নয়নের স্বার্থে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পৌর মেয়রের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

তবে আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ইজারার রাজস্ব আয় নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি। আব্দুল বাতেন উন্নয়ন সভায় নিজের মতো করে আইনি ব্যাখ্যা তৈরি করে তা অনুমোদনে চাপ দেন। সেটা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় সভার সব সদস্যের সামনেই আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। সে ঘটনার সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছেন।

সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভাকালে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ মঙ্গলবার তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।