চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০১ জন প্রাণ হারাল। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। গত মাসে কিছুটা কমলেও চলতি মাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৮০৯ জনে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ৩০১ জনের মৃত্যুর মধ্যে নগরীতেই ২০৮ ও বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে ৯৩ জন।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রামে কভিড আক্রান্ত হয়ে গেছে ০-১০ বছর বয়সী শিশু মারা গেছে ৪ এবং ১১-২০ বয়সী মারা গেছে ৩ জন। ৫ জন মারা গেছে ২১-৩০ বছর বয়সী এবং ৩১-৪০ বছর বয়সী মারা গেছে ১৭ জন। ৪১-৫০ বছর বয়সী মারা গেছে ৪১ জন। অন্যদিকে ৫১-৬০ বছর বয়সী মারা গেছে ৮০ জন। এদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং নারী ২১ জন। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ৬১ থেকে ঊর্ধ্ব বয়সীরা। এদের সংখ্যা ১৫১ জন। তার মধ্যে নারী ২৭, পুরুষ ১২৪।
চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সিভিল সার্জন মুক্তিযোদ্ধা ডা. সরফরাজ খান বাবুল বলেন, নগরীর মানুষের স্বাস্থ্যবিধি এবং সচেতনতার গাফিলতি রয়েছে। মানুষ এখনো মাস্ক ছাড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাফেরা করছে। বয়স্কদের বার্ধক্যজনিত রোগ থাকে, এর মধ্যে কভিড হলে ফুসফুসের ক্ষতিতে প্রাণঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এখন উচিত নগরীতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তাহলে জেল জরিমানার ভয়ে বাসিন্দারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, করোনা ভীতি কাটিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চেষ্টা করছে। জনবহুল মাস্ক, ফেসসিল্ড, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত-মুখ ধোয়ার প্রবণতা এখন আগের মতো নেই। আমরা বারবার বলছি অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই হাত-মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রত্যেক পরিবারেই বয়স্কদের আলাদা যত্ন নিতে হবে।
চট্টগ্রামের দামপাড়ায় গত ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সাতকানিয়ায় প্রথম এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। প্রায় দুই মাস পর ৮ জুন জেলায় মৃতের সংখ্যা ১০০ স্পর্শ করে। এরপর গত ৭ জুলাই মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০০।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামে মারা যাওয়া কভিড রোগীদের মধ্যে ১৫১ জনই ৬১-ঊর্ধ্বে বয়স। তাই পরিবারের বয়স্কদের যদি প্রয়োজনে বের হতে হয়, অবশ্যই মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। বয়স্কদের বেশিরভাগ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগেন। তাই সিজনাল ফ্লু থেকে তাদের সাবধানে রাখতে হবে। করোনা আক্রান্ত হলে অবশ্যই বয়স্কদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এসব রোগীর ঝুঁকি কমে। জেলার সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৪ জন আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখন যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারলে করোনা প্রতিরোধ সহজ হবে।