ভাগ্নিকে বিয়ের বিরোধিতা আর মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় খুন হন সোহাগ

ভাগ্নিকে বিয়ের বিরোধিতা করায় আর মেয়েকে আরেক আসামির উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রাণ দিতে হয় সোহাগ মিয়ার (৪৮)। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নিহত সোহাগ মিয়া বারহাট্টা উপজেলার চিরাম গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে এবং পেশায় মোটরসাইকেল রাইডার।

বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আসামিরা পূর্ব-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাতের বেলায় ব্রিজে বসে থাকে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে সোহাগ মিয়া একা মাছ ধরতে গেলে পেছন থেকে জাপটে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকা তারা।

একপর্যায়ে শার্ট দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং ডোবায় বন্যার পানিতে ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে আসামিরা কুচরিপানা ও ঝাউয়ের লতাপাতা দিয়ে লাশ ডেকে চলে যায়।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে বারহাট্টা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল মিয়ার চেষ্টায় গাজীপুর জেলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বারহাট্টা উপজেলার চিরাম গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যতম আসামি ইবনে সাকিব ওরফে শাকিলকে (২০) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই উপজেলার জয়হাল গ্রামের আলী আকবর মাস্টারের ছেলে।

শাকিল আদালতের কাছে এ ঘটনার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কাজে তারা পাঁচজন জড়িত ছিলেন এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে নিহত সোহাগ মিয়া মাছ ধরার জন্য কুচ, টর্চলাইট ও মাছর রাখার ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন সকালে বাড়িতে না ফেরায় নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

গত ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিরাম গ্রামের মিলন মিয়া মাছ ধরতে ক্ষেতের ডোবায় গেলে পচা গন্ধ পান এবং ঝাউয়ের লতাপাতা ও কচুরিপানার নিচে গলিত লাশ দেখতে পান।

পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।