‘প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে কর্ণফুলীকে’

‘কর্ণফুলী নদীর তীরেই দুই হাজার বছর আগে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক বন্দর গড়ে উঠেছে । এই বন্দর জাতীয় অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। অথচ যে নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দর গড়ে উঠেছে তাকে চেতন বা অবচেতন মনে প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে। কর্ণফুলী না বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে না’।

শুক্রবার সকালে কর্ণফুলী রক্ষায় আয়োজিত সাম্পান র‌্যালির আগে সমাবেশে বক্তারা এসব বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কর্ণফুলী ও দেশের নদ-নদী দখল-দূষণ নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুক্রবার এ সাম্পান র‌্যালির আয়োজন হয়।

প্রায় দু’শ সাম্পানে নিয়ে র‌্যালিটি কর্ণফুলী নদীর অভয় মিত্র ঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত গিয়ে আবার অভয় মিত্র ঘাটে আসে। 

র‌্যালি শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কর্ণফুলীর মাঝে একটি বড় নৌকায় মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান,  কর্ণফুলী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সফর আলী, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলী প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘কর্ণফুলী শুধু একটি নদী নয় জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। কর্ণফুলী বাঁচাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের সচেতনতা। কর্ণফুলী নদীতে যাতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে এবং নদী ভরাট করে যেন দখল না হয়, আমরা কেউ যেন সামান্য পরিমাণও কর্ণফুলী নদীকে দূষিত না করি। তাহলে কর্ণফুলী নদী রক্ষার উদ্যোগ অনেকাংশে সফল হবে’।

তারা বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিন আগ্রাসনে এবং নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্যে কর্ণফুলী নদীর প্রায় ২০ ফুট গভীরতা কমে গেছে। ২০ ফুটের এই পলেস্তারার কারণেই নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী প্রায় ৮০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে কম করে হলেও ৩০০’র বেশি কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ শিল্প ও কলকারখানাগুলোর দূষিত তরল বর্জ্য নদীতেই ফেলা হচ্ছে। তাই এ নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মৎস্য বিচরণের পরিবেশ নেই বললেই চলে। এ কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে চট্টগ্রাম বন্দর। তাদের বার্ষিক আয় ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাদের তহবিল থেকে একটি ন্যূনতম অংশ যদি কর্ণফুলী রক্ষায় ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হয় তাহলে কর্ণফুলী বাঁচবে এবং চট্টগ্রাম নগরের চেহারা পাল্টে যাবে’।