চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন এবং এক নারীসহ আরো দু’জন আহত হয়েছে।
এ সময় প্রায় ২০ মিনিট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহতদের কয়েকজন হলেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল ইসলাম (২০), সাকিবুল ইসলাম (১৯), মো. তারেক (২১), উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হান্নান (২৩), যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন (২৬), ছাত্রলীগ কর্মী আল আমিন (২১), জনি (২৮), পথচারী রশিদ আহম্মদ (৪৫) ও আলেয়া বেগম (৩২) নামে এক নারী।
আহতের মধ্যে তারেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে মাসুদ করিম রানাকে আহ্বায়ক এবং একরামুল হক সোহেল, আজাদ রুবেল, জাফর ইকবাল নাহিদ, আরিফুল ইসলাম, ফাহিুমুল হুদা, মিথুন শর্মাকে যুগ্ম-আহবায়ক ও রিপাত হোসেন সাদ্দাম, নাজমুল হাসান মুন্নাকে সদস্য করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে মিরসরাই সদরে আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
নতুন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ জানান, আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করলে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের সমর্থকরা বিপরীত দিক থেকে উস্কানীমূলক স্লোগান দেওয়ায় তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা না করে হঠাৎ অছাত্রদের নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে। কর্মী-সমর্থকদের বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগম, হান্নান, আরিফসহ অনেকে স্পিন্টারের আঘাতে আহত হয়।
নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাসুদ করিম রানা বলেন, শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালনের জন্য নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করলে কিছু লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আল-আমিন ও জনি নামে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। এরপর ছাত্রলীগের কর্মীরা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র উপজেলা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ২০ রাউন্ড শট গানের গুলি ব্যবহার করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।