সাধারণ বীমা খাতের ওপর বিনিয়োগকারীদের অতিমাত্রায় ঝোঁক বাড়ায় ঘুরে দাঁড়াতে বেগ পেতে হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারের। দিনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচক বাড়লেও দিন শেষে তা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগকারীরা বীমায় ঝুঁকে পড়ায় দিন শেষে দর হারাচ্ছে বেশিরভাগ শেয়ারের।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের বড় অংশই এসেছে সাধারণ বীমা খাত থেকে। একটি খাতের ওপর নির্ভরতার কারণে অন্যান্য খাতের শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এমনকি লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানির শেয়ার দরও কমছে। এতে করে লেনদেনের শুরুতে সূচকের যে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, তা দিন শেষে ধরে রাখা যাচ্ছে না।
গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে অধিকাংশ শেয়ার দরবৃদ্ধিতে সাধারণ মূল্যসূচকটি আগের দিনের চেয়ে ৪৬ পয়েন্ট বাড়ে। তবে দিন শেষে বেশিরভাগ শেয়ার দর হারালেও সূচকটি মাত্র ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪৮৭৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। বীমার শেয়ারে বড় ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি ব্যাংক, এনবিএফআই, সিমেন্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস, বিবিধ, খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ভর করে সূচক পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
গত কিছুদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও লেনদেনের শুরুতে কয়েকটি বীমা কোম্পানির শেয়ার দর সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করলে অন্য খাতে শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহ হারান বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী। এতে অন্য খাতের শেয়ারদর কমলেও ক্রমে বাড়তে থাকে বীমার শেয়ারদর। গতকাল লেনদেন শেষে সাধারণ বীমা খাতের একটি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে। এর মধ্যে ছয়টি সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। সব মিলিয়ে পুরো খাতটির বাজার মূলধন প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ে। অবশ্য জীবন বীমা খাতের শেয়ারদরে মিশ্র অবস্থার কারণে বাজার মূলধন প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। বীমার বাইরে এনবিএফআই ও সিমেন্ট খাতের দর সোয়া ২ শতাংশ হারে বেড়েছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড, বস্ত্র, সেবা ও নির্মাণ খাত সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে।
শুধু শেয়ারদর নয়, লেনদেনেও আগের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। ডিএসইতে গতকাল ৬৫৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে সাধারণ বীমা খাতেই ২২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোট লেনদেনের ৩৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশেরও কম লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে।
গতকাল ডিএসইতে ১১৩ শেয়ার ও ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৯৬টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৭টির দর। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৯৩ শেয়ার ও ফান্ডের দর বেড়েছে, কমেছে ১২০টির।