কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত নয় মাসেও শেষ করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তিন সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা জমা হয়নি।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের প্রোগ্রাম পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের ৮ম ব্যাচের এক ছাত্রী। অভিযোগে বলা হয়, ওই ছাত্রীকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বিভাগে তার কক্ষে এমনকি শহরে তার বাসায় যাওয়ার জন্য বলেছেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়া অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হলে ওই শিক্ষার্থীকে সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে ভাবতে হবে না এমনও বলেছেন তিনি। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আলী রেজওয়ান। সেখানে ছাত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেন তিনি।
২০ জানুয়ারি সান্ধ্য কোর্সের কার্যক্রম থেকে আলী রেজওয়ানকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলকে। ৩ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেন, ‘আমি ঘটনার পর থেকে বারবার রেজিস্ট্রার এবং তদন্ত কমিটিকে তাগাদা দিয়েছি। ধীরগতি দেখে পুনরায় লিখিতও দিয়েছি। কিন্তু কেন যে বিচার হচ্ছে না বা তদন্ত হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। আমি পরিবার এবং সমাজের কাছে অনেক ছোট হয়েছি। শুধুমাত্র বিবেকের তাড়না থেকে লিখিত দিয়েছি যেন আর কোনো মেয়ে নিপীড়নের শিকার না হয়।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের আহ্বায়ক কামরুন নাহার বলেন, ‘তদন্তের জন্য আসলে ৩ সপ্তাহ যথেষ্ট নয়। আমরা বেশ কয়েকবার বসেছি। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এরপর আমি শিক্ষা ছুটিতে চলে যাই।’
সেলটির সদস্য সচিব মানতাশা তাবাসসুম বলেন, ‘ঘটনার পর সমাবর্তন, এরপর করোনা- এ কারণে আমাদের দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার কারণে তদন্ত কমিটির সবাই একসঙ্গে বসতেও পারছি না। আশা করছি আমরা আবার শুরু করতে পারব।’
গত ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের কাছে আলী রেজওয়ানের বিরুদ্ধে মানহানির লিখিত অভিযোগ দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ আকবর হোসেন। এসব ঘটনায় বিভাগের শিক্ষকরা আলী রেজওয়ানের প্রতি অনাস্থা জানালে তিনি বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি চান। তাকে ১১ ফেব্রুয়ারি পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘যেহেতু তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছুটিতে আছেন আমরা তার স্থলে একজনকে দায়িত্ব দেব। দ্রুতই এর বিচার করা হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। কিন্তু প্রতিবেদন না পেলে আমরা বিচার কীভাবে করব? দেখি, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব।’