সাবেকিয়ানায় ফিরল উৎসব

করোনা পরিস্থিতিতে এবার সীমিত পরিসরে হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও সেভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা। আড়ম্বরের পরিবর্তে মন্ডপগুলোর প্রতিমা ও স্টেজ সজ্জা করা হয়েছে সাবেকিয়ানা ধাঁচে। অথচ বিগত সময়ে জেলায় বড় বড় পূজামন্ডপে বিভিন্ন থিম ও সংস্কৃতির আদলে প্রতিমা এবং স্টেজ সজ্জায় প্রাধান্য পেত আধুনিকতা। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলছেন, মন্ডপে নিরাপত্তা বাহিনী না রাখায় শঙ্কা রয়েই গেছে। তবে ভিড় নিরুৎসাহিত করা এবং নো মাস্ক নো এন্ট্রি কার্যকর থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, আজ বুধবার মহাপঞ্চমী থেকে চট্টগ্রামের মন্ডপে মন্ডপে শুরু হবে দুর্গোৎসব। এবার নগরীর ১৬টি থানায় ঘটপূজাসহ ২৭৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ২৬ অক্টোবর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে উৎসব। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার কুমোরপাড়া থেকে মণ্ডপে মন্ডপে প্রতিমা নেওয়া শুরু হয়েছে। করোনা সংকটে প্রতিমাশিল্পীরা আর্থিক টানাপড়েনে থাকলেও শুভকামনা জানিয়েছেন।

নগরীর সদরঘাট এলাকার প্রতিমাশিল্পী অমর পাল বলেন, ‘করোনা সংকটে পূজা হবে কি না, সংশয়ে ছিলাম। পরে অর্ডার পেয়েছি ২৭ সেট প্রতিমার। গেলবার ৫০ সেট প্রতিমা গড়েছিলাম। এবার প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম চড়া। সে অনুপাতে আমরা দাম পাইনি। বেশিরভাগ আয়োজক সাবেকিয়ানা ধাঁচের প্রতিমা চেয়েছে। আমরাও পুরনো বনেদি পরিবারের মণ্ডপের আদলে প্রতিমা তৈরি করেছি। এবার আর্থিকভাবে ক্ষতি হবে। তবে আগামীবার যেন মহামারী কাটিয়ে সবাই উৎসব করতে পারি, সে প্রত্যাশা থাকবে মা দুর্গার কাছে।’

গতকাল সরেজমিন দেওয়ানজী পুকুরপাড়, সদরঘাট, গোয়ালপাড়া গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্রতিমা সাবেকিয়ানায় গড়েছেন শিল্পীরা। তারা জানান, পূজা উদযাপন কমিটির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা গড়া হয়েছে। ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন মিত্র বলেন, ‘কয়েক বছর থিম করলেও আমাদের মন্ডপের প্রতিমায় সবসময় সাবেকিয়ানায় জোর দেওয়া হয়। এবার করোনার কারণে নগরীর অধিকাংশ পূজামণ্ডপে এটি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে ভালো লাগছে।’

নগরীর হাজারী লেনে পূজায় প্রত্যেকবার থিমের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি ও দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। তবে এবার চলছে সাবেকিয়ানায় আয়োজন। থাকছে না জাঁকজমক আলোকসজ্জা। হবে না বিশাল বাজেটের স্টেজ। হাজারী লেন সার্বজনীন দুর্গোৎসব পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও চসিকের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিমায় বাজেট ঠিক রেখেছি। বাদ দেওয়া হয়েছে থিম, আলোকসজ্জা ও বিশাল স্টেজের খরচ। জীবাণুনাশক চেম্বার রাখা হবে, সেটি পেরিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হবে। তবে আমরা ভিড় নিরুৎসাহিত করছি। মন্ডপে মন্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দিতে নিজ নিজ এলাকার মানুষদের উৎসাহ দিচ্ছি।’

বিগত বছরগুলোতে পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় স্থায়ীভাবে ৪-১০ জন পুলিশ ও ৫-১০ জন আনসার সদস্য থাকতেন। এবার শুধু টহল পুলিশের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আয়োজক ও বাসিন্দারা। নগরীর পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা কৌশিক দত্ত বলেন, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন নতুন কিছু নয়। এবার মণ্ডপে স্থায়ী নিরাপত্তা বাহিনী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন তালুকদার বলেন, ‘আমরা পুলিশ-আনসার না রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি। মন্ডপে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে, দায়ভার কে নেবে? আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন ছোট করেছি। নগরীতে থিম পূজা হচ্ছে না। মণ্ডপে নো মাস্ক নো এন্ট্রি কার্যকর থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাত ৯টায় মন্ডপ বন্ধের নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। তবে আমরা মন্ডপে একসঙ্গে ২০-২৫ জনের বেশি দর্শনার্থী যাতে অবস্থান করতে না পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।’