চাঁদপুরে লঞ্চের স্টাফ কেবিনে তরুণীর লাশ

চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয়ের এক তরুণীর (২০) লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে অবস্থান করা এমভি আব-এ জমজম লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই  তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লঞ্চের তিন স্টাফ মো. সুজন মোল্লা, মো. রাসেল ও মাসুমকে আটক করা হয়েছে।

লঞ্চটি নির্ধারিত দুপুর ১টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন ও নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহিরুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ জানায়, লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় স্টাফদের ব্যবহারের জন্য একটি কেবিন থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কেবিনটি লঞ্চের স্টাফ সুজন, রাসেল ও মাসুম ব্যবহার করতেন। ওই তরুণীর গলায় লাল সুতা দিয়ে প্যাঁচানো ছিল।

সুজন জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে লঞ্চটি। এ সময় সাড়ে ৬০০ টাকার বিনিময়ে ওই তরুণ ও তরুণীর কাছে নিজেদের ব্যবহৃত কেবিনটি ভাড়া দেওয়া হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় কেবিনটি পরিষ্কার করতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে খবর নিলে কোনো চাবি জমা দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়। দরজার তালা ভেঙে ভেতরে তরুণীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিই।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তরুণীর গায়ে থাকা পোশাকের ফিতা গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। যেহেতু যাত্রী সেজে এক ব্যক্তি কক্ষটি ভাড়া নিয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে হত্যাটি একজনই করতে পারে। তবে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। লঞ্চে সিসি ক্যামেরা থাকলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করতে পারতাম। এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা করবে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছি।