‘বালিকা বয়সে হালকা পাতলা ক্রাশ আমিও খেয়েছি’

জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি এখন পূজার আমেজে। নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন সম্প্রতি। চলছে নতুন আরেক সিনেমার প্রস্তুতি। পূজা, অভিনয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

এখন পূজাকে কিভাবে দেখেন?

আসলে প্রতিবছর পূজা নতুন নতুন অর্থ নিয়ে হাজির হয়। এবার যেমন করোনাকালে পূজা হচ্ছে। পূজা মানেই তো সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে হইচই, আনন্দ-উল্লাস করা। কিন্তু এবার করোনার জন্য সরকার থেকে অনেক আয়োজন করা নিষেধ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, করোনার মানসিক চাপ তো আছেই। তারপরও যতটুকু আনন্দ করা যায়। এখন আমার পূজা মানে ভাই, বোন, বোনের দুটি সন্তান। তাদের সঙ্গে দেখা করি, তারাও আমাকে ছাড়া এনজয় করে না।

ছোটবেলার পূজা কেমন ছিল?

ছোটবেলার পূজা মানে খুব আনন্দের, উপভোগের, উপহার পাওয়ার। আর এখনও আনন্দ করি, কিন্তু সাথে সাথে দায়িত্ব যোগ হয়েছে। পরিবারের ছোটদের আনন্দ ও উপহারের কথা আমাকে ভাবতে হয়। এটার মধ্যেও আনন্দ আছে।

পূজার কোন বিষয়টি সবচেয়ে মিস করেন?

ছোট্টবেলা মিস করি। বেশিরভাগ পূজা আমরা মামার বাড়িতে করতাম। বড় মামা আমাদের দু’বোনকে একরকম জামা গিফ্ট করতো। জামা হাতে পেয়েই অস্থির হয়ে যেতাম কখন নতুন জামাটা পরবো আর অঞ্জলি দেবো। আর মজার মজার সব খাবারের আয়োজন- এগুলো খুব মিস করি। আমার দাদু দিদিমাকেও ভীষণ মিস করি।

পূজায় প্রেমে পড়া বা ক্রাশ হয়েছিল কি?

পূজায় ক্রাশ ব্যাপারটা কমন। একদল ছেলে বেরই হয় মেয়ে দেখতে, কেউ বা বিয়ের জন্য পাত্রীও খোঁজে। আর মেয়েরাও সেজেগুজে বেরিয়ে আড়চোখে কম ছেলে দেখে না! তো এই দেখাদেখির মাঝেই ক্রাশ খাওয়ার ঘটনা ঘটে যায়। বালিকা বয়সে এমন হালকা পাতলা ক্রাশ আমিও খেয়েছি। তবে সেগুলো ঐ দেখাদেখি পর্যন্তই।

পূজায় কেমন সাজ পছন্দ?

পুজোতে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজ ভালো লাগে। শাড়ি-কুর্তি-ধুতি, সাথে ম্যাচিং ট্রেডিশনাল গয়না। অঞ্জলি দেবার সময় মন চায় পরিবারের সবাই একই রকমের পোশাক পরি। সবাই না হলেও আমার বোন, তার হাসব্যান্ড আর বাচ্চাদের একই রকম পোশাক উপহার দিই। তবে সবাই সেদিন নতুন পোশাক পরি । আর পূজার পোশাকের রং সাধারণত লাল, সাদা, হলুদ,গেরুয়া এগুলোর প্রাধান্য দিয়ে থাকি।

কি খেতে ভালো লাগে?

পুজোর খাবারের স্পেশালিটি হলো প্রসাদ। প্রসাদ মিস করি না। এ ছাড়া মায়ের হাতের পায়েস, সবজি, লুচি, নারকেলের তকতী এগুলো ভীষণ পছন্দের।

ঘুরতে যাওয়া হয়? সঙ্গী কে হলে ভালো হয়?

আলাদা করে ঘুরতে যাওয়া হয় না, কারণ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেই সময় থাকে না। আমি পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে পছন্দ করি। সবাই মিলে পূজা দেখি, খাই-দাই আবার মাঝে মাঝে কাছাকাছি আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াই।

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমার কাজ নিয়ে বলুন...

নূরুল আলম আতিকের এ সিনেমাটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানের সিনেমা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুক্তি দিতে হয়। তাই টানা শুটিং শেষে দ্রুত পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হবে। সিনেমায় আমার শুটিং শেষ। ডাবিং হবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সিনেমা। সিনেমাটি স্বাধীনতার ৫০বছর পূর্তিতে রিলিজ দেয়া হবে।

এখনকার অভিনয় ভাবনা...

নতুন সিনেমার প্রস্তুতি নিচ্ছি, পুজোর পর আশা করি শুটিংয়ে যাবো। নতুন কাজ করার জন্য ছটফট লাগছে। অভিনয়ের পাশাপাশি আমার ২টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। একটা মিডিয়া, আরেকটা এগ্রিকালচার। আমার প্রোডাকশন থেকেও কাজ করার পরিকল্পনা  করছি। দেখা যাক কি হয়! যেহেতু করোনা চলছে, তাই সবকিছু খুব ধীরে ধীরে হচ্ছে।

দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

নিজেকে দশ বছর পর দেখতে চাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। আমার খামারের গাছপালা, ফুল পাখিদের সাথে কথা বলছি আর কখনো সখনো আমার অস্কার প্রাপ্তির ক্রেস্টটা এদের দেখাই, আমিও দেখি।