লিবিয়ার কণ্ঠে আশা

লিবিয়ার বিবদমান দু’পক্ষ স্থায়ী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভায় পাঁচ দিন আলোচনার পর গত শুক্রবার এ চুক্তি হয়। পর্যবেক্ষকরা চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথে একধাপ এগোল বলে মন্তব্য করেছেন। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে লিবিয়ার বাসিন্দারা আশাবাদের পাশাপাশি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বেনগাজি শহরের স্কুলশিক্ষক হাসান মাহমুদুল আল-ওবেদি (৪০) এএফপিকে বলেন, ‘অতীতে এ ধরনের অসংখ্য চুক্তি আমরা দেখেছি। সব চুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তার বাস্তবায়নে। যুদ্ধের কারণে এখানে ভয়ংকর হয়ে ওঠা সামাজিক বিভক্তি রুখতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

গৃহযুদ্ধে ভাগ হয়ে যাওয়া লিবিয়ার দুই অংশ ক্ষমতায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার জিএনএ এবং ন্যাটো সমর্থিত জেনারেল হাফতার সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এলএনএ। দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল এমনকি রাজধানী ত্রিপোলির অনেকাংশ এলএনএ’র দখলে চলে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ এবং জেনেভায় গত সোমবার থেকে জিএনএ ও এলএনএ’র প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন।

লিবিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টেফানি উইলিয়ামস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দেশটির ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিতের ‘গুরুত্বপূর্ণ বাঁক’ অভিহিত করে বলেন, ‘এটি কার্যকর হলে লিবিয়ার ভেতরে-বাইরে শরণার্থী হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবে।’

চুক্তি অনুযায়ী বিদেশিসহ সব পক্ষ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাদের সেনা ও সামরিক ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। চুক্তি কার্যকরের অংশ হিসেবে শুক্রবারই রাজধানী ত্রিপোলি থেকে হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল করে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ চুক্তি সফল হওয়ার জন্য বিবদমান দু’পক্ষের বাইরেও অনেক বিষয় জড়িত। কারণ আগেও এমন অনেক উদ্যোগ সফল হয়নি। লিবিয়ার সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিল্লেত বলেন, ‘দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা ভালো দিক। কিন্তু এখনো শয়তান বিতাড়িত হয়নি। আতঙ্কের বিষয় হলো, লিবিয়ার সামরিক বাহিনীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করা দেশগুলো কি এই চুক্তি সমর্থন করছে?’

জিএনএ’র পক্ষে যুদ্ধ করা সেলিম আতুচ চুক্তি কার্যকরে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগের চুক্তির অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। চুক্তির পাঁচ দিন পরই ত্রিপোলিতে হাফতার আক্রমণ করে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস ও প্রাণহানি ঘটায়। আমরা চাই না এমনটি আবার হোক। তবে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’