নারায়ণগঞ্জে ‘বউবাজার’ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

১০ কোটি টাকা নিয়ে অবৈধ সমিতির মালিক উধাও

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে একটি সমিতির প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহকের অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি। করোনাকালে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। দেড় মাস ধরে কয়েক দফায় রমজান আলীর বাড়ি ঘেরাও, বিক্ষোভ করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে বাবুরাইল ‘বউবাজার’ নামে একটি বাজার বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। ওই বাজারে ২০টি দোকান রয়েছে পলাতক রমজান আলীর। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সমিতির টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন কয়েক শ নারী-পুরুষ।

বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আঠারো বছর ধরে রোজগারের একটি অংশ তারা রাখতেন সমিতিতে। মাসিক কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে টাকা জমা করতেন তারা। ওই সব গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন সমিতির মালিক রমজান আলী। দেড় মাস যাবৎ নানা চেষ্টা চালিয়েও খোঁজ মেলেনি তার। উপায় না দেখে কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, নগরীর বাবুরাইল বউবাজার এলাকায় সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল নামে একটি সমিতি গড়ে ওঠে। ওই সমিতির আড়াই হাজার গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেন রমজান আলী। গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে হয়রানি করছেন তিনি। দেড় মাস যাবৎ কয়েক দফায় রমজান আলীর বাড়ি ঘেরাও, বিক্ষোভ করেও কোনো লাভ হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র বিভা হাসান বলেন, আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এই সমিতিতে। মাসিক ভিত্তিক সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (ডিপিএস) ও দুই থেকে দশ বছর মেয়াদে (এফডিআর) মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন তারা। সর্বনিম্ন ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন কেউ কেউ। গ্রাহকদের অধিকাংশই নারী। সারা জীবনের সঞ্চয় ও জমি বিক্রি করে বিনিয়োগ করেছেন তারা। তবে কোনো ধরনের লাইসেন্স বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ আঠারো বছর যাবৎ অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করে আসছেন রমজান আলী।

সমিতির গ্রাহক ও তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনি আক্তার জানান, তার সাড়ে তিন লাখ টাকার সঞ্চয় রয়েছে ওই সমিতিতে। এই টাকা ফেরত চাইলে গড়িমসি করেন রমজান আলী। করোনার শুরুর দিকে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ সমিতির নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন রমজান আলী। বহুতল ভবন, জমি, বাবুরাইল বউবাজারে ২০টি দোকান ছাড়াও স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি করেছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুরাইল বউবাজারে যেখানে মাছের বাজার রয়েছে, সেখানে সমিতির গ্রাহকরা একটি ব্যানার লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এই জমি এবং দোকান রমজান আলীর বলে জানিয়েছেন তারা।  এ ব্যাপারে জেলা সমবায় অফিস জানায়, বাবুরাইলে রমজান আলীর সঞ্চয় সমিতি জেলা সমবায় অফিসের তালিকাভুক্ত নয়। এটি একটি অবৈধ সমিতি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, সমিতির অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।