প্রোস্টেট একটি ছোট গ্রন্থি, যা একমাত্র পুরুষদেরই থাকে। আখরোট আকারের এই গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গ ও মূত্রাশয়ের মধ্যে অবস্থান করে। এটি মূত্রনালি ঘিরে থাকে, যা মূত্রাশয় থেকে পুরুষাঙ্গে মূত্র বহনকারী নল। প্রোস্টেট বীর্য উৎপাদনে সাহায্য করে। প্রোস্টেট থেকে এক ধরনের সাদা তরল পদার্থ তৈরি হয়, যা শুক্রাশয়ে উৎপন্ন শুক্রাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বীর্য সৃষ্টি করে। এখন প্রোস্টেট ক্যানসার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ পুরুষ সফলভাবে চিকিৎসার ওপর বেঁচে আছেন।
লক্ষণ
প্রোস্টেট ক্যানসার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তাই কয়েক বছর পর্যন্ত সব লক্ষণ অনুভব নাও হতে পারে। তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে যখন মূত্রনালিকে আক্রান্ত করে, তখনই কিছু লক্ষণ দেখা যায়। রোগী তখন প্রস্রাব করতে বেশ কিছু অসুবিধাবোধ করেন। যেমন হঠাৎ বেশি বেগে প্রস্রাব পাওয়া। প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব হওয়া। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। বীর্য রসের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। কোমর ও তলপেটে ব্যথা অনুভব হওয়া। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি। প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখা কষ্টকর হওয়া। মূত্রত্যাগের শুরুতে প্রস্রাব আসতে দেরি হওয়া। প্রস্রাব শেষ করতে বেশি সময় লাগা। মূত্রত্যাগের পরও মনে হয় বেগ আছে। কিছু ক্ষেত্রে বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়ার কারণেও হতে পারে। তাই উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই নিশ্চিত হতে হবে।
কাদের হয়
বয়স্ক অর্থাৎ ৫০ বছরের ওপর পুরুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা প্রোস্টেট ক্যানসার হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। কালো চামড়ার পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। নিয়মিত শারীরিক চর্চা অনুশীলনকারী ব্যক্তিরা প্রোস্টেট ক্যানসার হওয়ার কম ঝুঁকিতে থাকে। ধূমপায়ীদের প্রোস্টেট ক্যানসার অধূমপায়ীদের তুলনায় বেশি। উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান, যেমন লাইকোপিন, সেলেনিয়ামযুক্ত খাবার কম খান, তাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি।
রোগ নির্ণয়
রক্তে প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেনের (পিএসএ) মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষা। এ পরীক্ষা দ্বারা প্রাথমিক অবস্থার প্রোস্টেট ক্যানসার নির্ণয় করা যেতে পারে। সংক্রমণ আছে কি না, তা জানার জন্য মূত্রের পরীক্ষা। প্রোস্টেট ক্যানসারের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু রোগের, যেমন ক্যানসারবিহীনভাবে প্রোস্টেট বৃদ্ধি এবং মূত্রনালির প্রদাহের কারণেও পিএসএর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পিএসএর মাত্রা উচ্চ থাকলে তা প্রোস্টেট ক্যানসার এমনটা কিন্তু নয়।
চিকিৎসা
প্রোস্টেট ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে সার্জারির মাধ্যমে প্রোস্টেট অপসারণ। তবে রোগীর বয়স ও অন্যান্য শারীরিক অসুবিধার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভবপর হয় না। অনেক ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোনথেরাপি, প্রোটনথেরাপিও প্রয়োজন হয়। তবে সে ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগীর বয়স ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণেও ঝুঁকি থাকে।