ফেনীতে নিম্নচাপের প্রভাবে ২৪৮ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত

গত কয়েক দিনের নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ে ফেনীতে ১২৭ হেক্টর রোপা আমন ও ১২১ হেক্টর রবিশস্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে করে জেলার অন্তত সহস্রাধিক কৃষক দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছে। 

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার ফেনীর ৬ উপজেলায় ৬৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়। ১২৭ হেক্টর ধানি জমিতে পানি জমার কারণে ফসল নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। কিন্তুু গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা বর্ষণে ১২১ হেক্টর জমির সবজি, খিরা, ধনিয়া ও মাষকলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাগাজী উপজেলায় ২০ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়। এর মধ্যে ১৯ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। একইভাবে ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর আমনে মধ্যে ৫০ হেক্টর, ফুলগাজীতে ৬ হাজার ২০৫ হেক্টর রোপা আমনের মধ্যে ৩০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১৫ হাজার ৯৪০ হেক্টরের মধ্যে ২০ হেক্টর, দাগনভূঞা ৮ হাজার ৩১০ হেক্টরের মধ্যে ৫ হেক্টর ও পরশুরামে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টরের মধ্যে ৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নুয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, শুধু রোপা আমনই নয়; সম্পªতি বর্ষণে জেলায় ১২১ হেক্টর শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ১০২ হেক্টর শীতকালীন সবজি খেতে পানি জমে গেছে। এ ছাড়া জেলায় ৬১ হেক্টর খিরা খেতের ১৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ৮ হেক্টর ধনিয়ার মধ্যে ২ হেক্টর ও ৭ হেক্টর মাষকলাই এর মধ্যে ২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সবজি খেত থেকে দ্রুত পানি সরানো না গেলে সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাবে।

পরশুরাম উপজেলার কৃষক আমান উল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে আমনে ভালো ফলন নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তুু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তার অন্তত ১ একর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। এসব জমির ধানও ও খড় কিছুই পাওয়া যাবে না। এ জন্য তিনি হতাশায় দিনাতিপাত করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক তোফায়েল আহাম্মদ চৌধুরী জানান, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন। রবিবার পর্যন্ত জেলায় সহস্রাধিক কৃষকের ২৪৮ হেক্টর রোপা আমান ও রবিশস্য পানিতে নিমজ্জিত মর্মে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। পানি দ্রুত সরানো গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। জমিতে এখনো পানি থাকায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।