নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি এবং ঝড়ে ফেনীতে সম্প্রতি ১২৭ হেক্টর রোপা আমন ও ১২১ হেক্টর রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে। এতে করে জেলার সহস্রাধিক কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার ফেনীর ৬ উপজেলায় ৬৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়। ১২৭ হেক্টর ধানি জমিতে পানি জমার কারণে ফসল নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি এবং শস্য আবাদ করা হয়। কিন্তু গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা বর্ষণে ১২১ হেক্টর জমির সবজি, ক্ষীরা, ধনিয়া ও মাসকলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলায় ২০ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়। এর মধ্যে ১৯ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। একইভাবে ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৯ হাজার ২৫০ হেক্টরের মধ্যে ৫০ হেক্টর, ফুলগাজীতে ৬ হাজার ২০৫ হেক্টরের মধ্যে ৩০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১৫ হাজার ৯৪০ হেক্টরের মধ্যে ২০ হেক্টর, দাগনভূঞায় ৮ হাজার ৩১০ হেক্টরের মধ্যে ৫ হেক্টর ও পরশুরামে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টরের মধ্যে ৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নুয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ আরও জানায়, শুধু রোপা আমনই নয়, সম্প্রতি বর্ষণে জেলায় ১২১ হেক্টর শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ১০২ হেক্টর শীতকালীন সবজি ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এ ছাড়াও জেলায় ৬১ হেক্টর ক্ষীরা ক্ষেতের ১৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে ৮ হেক্টর ধনিয়ার মধ্যে ২ হেক্টর ও ৭ হেক্টর মাষকলাইয়ের মধ্যে ২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি সরানো না গেলে সব সবজি ও শস্য নষ্ট হয়ে যাবে।
পরশুরাম উপজেলার কৃষক আমান উল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন নিয়ে আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার অন্তত ১ একর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। এসব ধান বা খড় কিছুই পাওয়া যাবে না। এ কারণে তিনি হতাশ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক তোফায়েল আহাম্মদ চৌধুরী জানান, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন। গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় সহস্রাধিক কৃষকের ২৪৮ হেক্টর রোপা আমন ও রবিশস্য পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। পানি দ্রুত সরানো গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। জমিতে এখনো পানি থাকায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।