লালমনিরহাটে বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে এক নারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দিনমজুর খলিলের মরদেহ নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাড়ির ফটকের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে গ্রামবাসীরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এর গাড়িবহর যানজটে আটকা পড়ে । নিহত দিনমজুর খলিল মিয়া (৩৪) কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম গ্রামের আবদার মুনশির পুত্র।

এলাকার লোকজন অভিযোগ করে জানান, উপজেলার কাশিরাম গ্রামের ফজলুল হক মাস্টারের মেয়ে স্থানীয় উত্তর বাংলা কলেজের প্রভাষক মুনতাযীর তাবাচ্ছুম তামান্না স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এলাকার লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি করে গ্রামবাসীকে জিম্মি করেন। তার হয়রানির প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে উল্টো তামান্নার মিথ্যা মামলা গ্রহণ করে নিরীহ গ্রামবাসীকে হাজতে পোড়েন। 

সম্প্রতি কলেজ শিক্ষিকা তামান্নার দায়ের করা একটি মামলায় দিনমজুর খলিল মিয়া আদালতে যাওয়ার পথে অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে দুই দিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সোমবার মারা যান। খলিলের এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকার লোকজন। তারা প্রভাষক তামান্নার গ্রেপ্তার ও কালীগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদের প্রত্যাহারসহ তামান্নার দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে খলিলের মরদেহ নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে পুলিশ ২ঘন্টা প্রচেষ্টা চালিয়েও অবরোধকারীদের অবরোধ তুলে নিতে ব্যর্থ হন। এতে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়ে মহাসড়কের চলাচলকারী যানবাহন ও যানবাহনে থাকা যাত্রীরা। 

এ সময় দুই দিনের সফরে নিজ জেলায় আসা সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের গাড়িবহরও আটকা পড়ে। দীর্ঘ যানজট কেটে দুই ঘণ্টা পর মন্ত্রীর গাড়ি বাড়ির সামনে পৌঁছালে তাদের দাবি ভেবে দেখার আশ্বাস দিলেও অবরোধকারী মহাসড়ক ছেড়ে দেয়নি।

অবশেষে অবরোধকারী গ্রামবাসী কয়েকজনকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। মন্ত্রী গ্রামবাসীর দাবিগুলো মনোযোগ সহকারে শুনে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তামান্নার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দাখিল করা অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় গ্রামবাসী। 

কলেজশিক্ষক মুনতাযীর তাবাচ্ছুম তামান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বাসার কাজের মেয়েকে মারধরের অভিযোগে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করি। সেই অভিযোগের সত্যতা পেয়ে থানা-পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি ছিলেন খলিল। খলিল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার খবরে আমি প্রতিবেশী হিসেবে মর্মাহত। এ ছাড়া জমি-জমা সংক্রান্ত আরেকটি মামলার বাদী তিনি। 

তিনি আরও বলেন, যে কোন মানুষের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার আছে। এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো দুঃখজনক। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন পুলিশের সঙ্গে সখ্যর বিষয়ে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেছি। ভবিষ্যতে কোন নিরপরাধ লোকজন যেন হয়রানিমূলক মামলার স্বীকার না হন, সে জন্য পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রাখবে বলেও জানান তিনি।