বাপ্পী চৌধুরী আর সাইমন সাদিকের সিনেমার যাত্রা কাছাকাছি সময়ের। শুরুতেই তারা একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে সবার আস্থা অর্জন করেছেন। নায়কদের ইঁদুর দৌড়ে এ দুজনকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন অনেকেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাদের সম্পর্ক বেশ ভালো। কিন্তু সম্প্রতি একটি সিনেমায় নায়ক বদলের ঘটনায় অনেকেই হয়তো ভাবছেন তাদের সম্পর্ক বুঝি সত্যিই বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। কিছুদিন আগে এসকে ফিল্মস ইন্টারন্যাশনালের ব্যানারে ‘তুমি আছো তুমি নেই’ নামের একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন বাপ্পী। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। নায়িকার চরিত্রে আছেন শিশুশিল্পী হিসেবে তারকাখ্যাতি পাওয়া দীঘি। দিন কয়েক পরেই খবর আসে, বাদ পড়েছেন বাপ্পী, তার বদলে নেওয়া হয়েছে সাইমনকে!
বিষয়টি আসলে এ রকম নয়। বাপ্পী বলেন, ‘সিনেমার গল্প, আমার চরিত্র, পরিচালক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, নায়িকা সবই খুব পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু আমি এখন আর আগের মতো গৎবাঁধা কাজ করতে চাই না। এখন যে কাজটিই করছি তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই করছি। আর একটি সিনেমায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। কিন্তু ‘তুমি আছো, তুমি নেই’-এর পরিচালক-প্রযোজকরা দ্রুত কাজটি শেষ করতে চান। তারা আমাকে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দিতে পারছেন না। এ জন্য আমি সিনেমাটি থেকে বেরিয়ে এসেছি।’
বাপ্পীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সিনেমাটি করা নিয়ে সাইমন সাদিক বলেন, ‘প্রথমত আমি জানতামই না যে এই সিনেমায় প্রথমে বাপ্পীকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। আমি চুক্তি স্বাক্ষর করার পর একটি নিউজে দেখতে পেলাম বাপ্পী বাদ পড়েছে। কিন্তু বাপ্পী বাদ পড়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যখন একটি সিনেমার জন্য কাউকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়, তাকে বাদ দেওয়া যায় না। বাপ্পী হয়তো সিডিউল মেলাতে পারছিল না, বা কোনো কারণে প্রজেক্টটা পছন্দ করছিল না। পরে শুনেছি বাপ্পী প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চাইছিল। যে কারণে সে সিনেমাটি করছে না।’ সাইমন আরও বলেন, ‘আমি আগে বাপ্পীর বিষয়টি জানলে তার সঙ্গে কথা বলতাম। সে কেন সিনেমাটি করছে না সেটা জেনে নিয়েই কাজটি করতাম। আমরা একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি। একটি সিনেমা সেখানে বড় ব্যাপার নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবচেয়ে বড় বিষয়।’
নায়ক পরিবর্তন নিয়ে সিনেমার নায়িকা দীঘি নাকি এখনো কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমিও লোকমুখে একেক সময় একেক কথা শুনেছি। কিন্তু অফিশিয়ালি আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তবে হ্যাঁ, বাপ্পী বা সাইমন- দুজনই জনপ্রিয় নায়ক। আমি দুজনের কাজই পছন্দ করি। সুতরাং আমার বিপরীতে তাদের যেই থাকুক না কেন, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু জানিয়েছেন, ‘আগামী নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে শ্যুটিং শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা টানা শ্যুটিং করব। এক লটেই সিনেমার ক্যামেরা বন্ধ হবে। শ্যুটিং শুরু হবে ঢাকার বাইরে। তবে লোকেশন এখনো ঠিক করা হয়নি। নতুন বছরের শুরুতেই ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমরা চাই এই সিনেমার মাধ্যমেই নায়িকা হয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হবে দীঘির। এজন্য দ্রুত কাজ শেষ করতে চাই। কিন্তু বাপ্পী এই সময়ে কাজ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। এমনকি সাইনিং মানিও ফেরত দিয়েছে। তাই আমরা সাইমনকে নিয়ে কাজটি করছি।’
দীঘি বলেন, ‘নায়িকা জীবনের শুরুতেই দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর মতো গুণী নির্মাতার ভরসার জায়গা দখল করাটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। আমি একই সঙ্গে আনন্দিত ও গর্বিত। চেষ্টা করব মন দিয়ে কাজ করে তাদের আস্থার জায়গাটি ধরে রাখতে।’ সিনেমাটি নিয়ে সাইমন বলেন, ‘দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বিখ্যাত নির্মাতা। তিনি খুব মজার মানুষ। আশা করছি কাজটি আরাম করে শেষ করতে পারব। দীঘি সম্পর্কে বলতে চাই, তার রক্তে অভিনয় আছে। সে জনপ্রিয় শিল্পী, নায়িকা হিসেবেও সফল হবে বলে আমার বিশ্বাস।’