রায়হান হত্যাকাণ্ডে পুলিশ জড়িত থাকায় আমি লজ্জিত: এসএমপি কমিশনার

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতরা ছাড় পাবে না জানিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেছেন, ‘রায়হান হত্যাকাণ্ডটি অনভিপ্রেত ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা জড়িত থাকায় আমি লজ্জিত’।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত, বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার অ্যাসাইনমেন্ট নিয়েই তিনি সিলেটে যোগদান করেছেন বলে জানান, নিশারুল আরিফ।

তিনি মঙ্গলবার রাতে নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ায় নিহত রায়হান আহমদের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব বলেন।

বরখাস্তকৃত এসআই আকবর পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও লজ্জার জানিয়ে তিনি বলেন, আকবরকে ধরতে অনেকগুলো ফোর্স কাজ করছে। তাকে ধরিয়ে দিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি জনগণের প্রতিও আহ্বান জানান।

নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রাহয়ান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। নতুন কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন নিশারুল আরিফ।

এদিকে রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২ দফা রিমান্ড শেষে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।  

বুধবার বিকালে কড়া নিরাপত্তায় টিটু চন্দ্র দাসকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় টিটু চন্দ্র দাস আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে রিমান্ডে টিটু কী তথ্য দিয়েছেন তা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

কনস্টেবল টিটুকে গত ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এরপর প্রথম দফায় পাঁচ দিন ও দ্বিতীয় দফায় আরো তিনদিন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার আরেক কনস্টেবল হারুনুর রশিদ বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।  

সিলেটের আখালিয়ার নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।