যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিশ্বের অন্য দেশগুলোর নির্বাচনের তুলনায় অনেকটা ভিন্ন। এ ভিন্নতা একদিকে যেমন ভোটের ব্যবস্থার দিক দিয়ে, অন্যদিকে আড়ম্বরতার দিক দিয়েও এ নির্বাচন বেশ পৃথক। নির্বাচনের এ জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনেক বছর ধরেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যগুলোর কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনী জটিলতা নিরসনে কোনো সহজ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারেনি তারা।
ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন কিছুটা জটিলতা কমাতে চেয়েছিল। কিন্তু কে জানত পৃথিবীতে করোনাভাইরাসের মতো এক মহামারী আসবে, আর সেই মহামারীর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে ডাকযোগ ভোট। বিগত সব নির্বাচনের তুলনায় এবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার হার বেশি হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ইতিমধ্যেই দেশটিতে আগাম ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে। কমবেশি সাত কোটির বেশি আমেরিকান ইতিমধ্যেই আগাম ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের বাকি আর কয়েকটা দিন। এ সময়ের মধ্যে আগাম ভোটের সংখ্য আরও বাড়তে পারে, যা বড় রেকর্ড তৈরি করবে।
১৯৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু ২০১৬ সালে তা দাঁড়ায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে দ্বিধাবোধ করছে। ভোটের দিন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হয় ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তা হবে না। আগের তুলনায় অনেক যাচাই-বাছাই করে এবার ভোট দেবেন আমেরিকানরা। ১০টি রাজ্য ইতিমধ্যেই তাদের ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠিয়ে দিয়েছে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। আর ৩৫টি রাজ্যকে চাহিদার ভিত্তিতে পোস্টাল ব্যালট দেওয়া হচ্ছে। ওই রাজ্যগুলোতে ভোটাররা চাইলে তাদের ব্যালট পাঠানো হবে এমন নিয়ম করা হয়েছে এবার। তবে মাত্র পাঁচটি রাজ্য তাদের নাগরিকদের ডাকযোগে ভোট দিতে দিচ্ছে, যদি ওই ভোটারের বৈধ কোনো কারণ থাকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে।
ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিয়ে অতীতের তুলনায় এবার বিতর্ক বেশি। নির্বাচনের ফল নিয়ে আবারও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, মেইল ইন ব্যালটে দেওয়া লাখ লাখ ভোট গণনার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়াটা বেআইনি। ৩ নভেম্বরেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা উচিত।
এত বেশিসংখ্যক মেইল ইন ভোটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভোট গণনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ভোট গণনা শেষ করতে আরও বেশ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এর মানে হলো, ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সে রাতেই বিজয়ী ঘোষণা নাও করা হতে পারে। এখানেই শঙ্কিত ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে ব্যালট গণনা না করে ৩ নভেম্বরেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করাটা যথার্থ কাজ হবে এবং তা খুব সুন্দর দেখাবে। দুই সপ্তাহ ধরে ব্যালট গণনা করাটা যথার্থ কাজ নয় এবং আমার বিশ্বাস, এটি আইনসম্মত নয়। দেখি, কী হয়।’
ট্রাম্প উদ্বিগ্ন হলেও ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, ‘মেইল ইন ব্যালট নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’ এবার রিপাবলিকানদের চেয়েও ডেমোক্রেটরা মেইল ইন ভোট বেশি দেওয়ার পক্ষে। শুধু ফ্লোরিডাতেই আট লাখ ভোটার ডাকযোগে ভোট দিতে নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন করেছে। মেইল ইন ব্যালট কীভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে তাই এখন বিবেচনার বিষয়।