যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পপুলার ভোটের চেয়েও শক্তিশালী ইলেকটোরাল ভোট। অনেক প্রার্থী সর্বোচ্চ পপুলার ভোট পেয়েও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। আর কোনো প্রার্থী পপুলার ভোট কম পেয়েও ইলেকটোরাল ভোট বেশি পেয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বতন্ত্র এই পদ্ধতির কারণেই ২০১৬ সালের নির্বাচনে কম ভোট পেয়েও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতির ফলে দেশটির ইতিহাসে এ পর্যন্ত চার প্রার্থী জনপ্রিয় ভোটে জয়ী হয়েও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। ১৭৮৭ সালের সংবিধান অনুযায়ী ইলেকটোরাল কলেজ প্রবর্তিত হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি এবং রাজ্যগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। শঙ্কা ছিল যে, মানুষ তাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন এবং ভোটে আধিপত্য থাকবে জনবহুল রাজ্যগুলোর।
গোটা যুক্তরাষ্ট্রে সব রাজ্য মিলে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ রয়েছে। কোন রাজ্যে কত ইলেকটোরাল কলেজ; তা নির্ধারণ হয় প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সংখ্যা এবং রাজ্যের দুজন সিনেটরের ওপর। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে অর্ধেকের চেয়ে একটি বেশি অর্থাৎ ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজে জয়ী হতে হয়। এতে করে কোনো বড় রাজ্যের একটি ভোটের চেয়েও ছোট রাজ্যের একটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটা হয় ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতির কারণেই। উদাহরণস্বরূপ ক্যালিফোর্নিয়ায় রয়েছে সর্বোচ্চ ৫৫টি ইলেকটোরাল ভোট। আবার আলাস্কা, সাউথ ডাকোটা, ভারমন্টের প্রতিটিতে রয়েছে ৩টি করে ইলেকটোরাল ভোট।
মূলত একটি রাজ্যের প্রতিটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের জন্য একটি করে ভোট এবং দুজন সিনেটরের জন্য দুটি করে ভোট বরাদ্দ থাকে। দুটি ছাড়া দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নিয়ম হলো; যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পাবেন, তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যাবেন। এভাবে সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ হয়ে যে প্রার্থী মোট ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পাবেন; তিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন।
সবচেয়ে বেশি ইলেকটোরাল ভোট থাকা ছয়টি অঙ্গরাজ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়া (৫৫), টেক্সাস (৩৮), নিউইয়র্ক (২৯), ফ্লোরিডা (২৯), ইলিনয় (২০) ও পেনসিলভানিয়া (২০)। প্রতিটি নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজে ভোট বেশি থাকা রাজ্যগুলোতে প্রচারণাও চলে বেশি। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের অস্ত্র হতে যাচ্ছে ইলেকটোলার ভোটাররা। আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী উভয় দিকে জোর দিলেও পপুলার ভোটের পাল্লা তার দিকে ভারী।