দীর্ঘ ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে একযোগে ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের ৫৮টি বুথে চলছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ।
সীমানা জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় ৯ বছর ধরে বন্ধ ছিল ইউনিয়নের নির্বাচন।
সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে প্রেক্ষিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ৯টি ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আবুল কাশেম শাহ্ নৌকা প্রতীক, বিএনপির ছাইয়েদুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মছিরত আলী শাহ্ ফকির চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইউনিয়নের মোট ২০ হাজার ৯৯৭ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৭৬২জন এবং নারী ১০ হাজার ২৩৫জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
সকাল থেকেই ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে থাকেন ভোটাররা। তবে কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আফতাব উজ্জামান জানান, সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা চলবে ভোটগ্রহণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রতিটিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে আটজন পুলিশ সদস্য এবং চারটি সাধারণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাতজন পুলিশ সদস্য এবং ১৭ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত করা রয়েছেন।
এছাড়াও তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিনটি মোবাইল টিম এবং বিজিবি ও র্যাবের টহল দল মাঠে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১১ সালের ৫ জুন টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৪ জুন মেয়াদ শেষ হলেও সীমানা জটিলতায় উচ্চ আদালতে মামলা চলায় নির্বাচন হয়নি। এরপর আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আবুল কাশেম শাহ নির্বাচন চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।
শুনানি শেষে সম্প্রতি উচ্চ আদালত নির্বাচনের রায় দেয়। ওই রায়ের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।’