করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হঠাৎ বেড়েছে। পরীক্ষা বাড়লেই রোগী শনাক্ত বাড়ছে। গত বুধবার ১৭ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে প্রায় দেড় হাজার রোগী শনাক্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার তার চেয়েও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ হারে ১ হাজার ৬৮১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ৫ দিনের মধ্যে ৩ দিনই ১২ শতাংশের বেশি বা কাছাকাছি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেখানে তার আগের ১০ দিন রোগী শনাক্তের হার ১১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শনাক্ত বাড়ার পাশাপাশি গত তিন দিন ধরে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও বেড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা গত ১৭ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। গত সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যুর পর গত তিন দিন তা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। এ তিন দিন যথাক্রমে ২০, ২৩ ও ২৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বরাবরই ঢাকা বিভাগে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি তা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জনই ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া এদিন মৃতদের মধ্যে ২০ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৩৬তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন আরও একটি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে ১১২টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৪৮টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ২৬৮টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৮১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৫৪৮ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৩ লাখ ১০ হাজার ৫৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৮৮৬ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ২৮১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৫ ও সুস্থতার হার ৭৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫, চট্টগ্রামে ৫, সিলেটে ৩ এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের ১১, ৫১-৬০ বছরের ৯, ৪১-৫০ বছরের ৩ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ২ জন। হাসপাতালে মারা গেছে ২৪ এবং বাড়িতে ১ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৫২৯ ও নারী ১ হাজার ৩৫৭ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৫ ও নারী ২৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৩ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৬৯, খুলনায় ৪৬৬, রাজশাহীতে ৩৭০, রংপুরে ২৬২, সিলেটে ২৪৫, বরিশালে ১৯৯ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১২২ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৮২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৫১ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৬১৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪০ হাজার ৯৩২টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৬০৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৩৯৬টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৯৮টি।