চ্যাম্পিয়নশিপের সময় না বাড়লে বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি?

টেস্ট ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করতে আসা চ্যাম্পিয়নশিপ যুগের প্রচলনটা বিমর্ষ করে দিল করোনা। সামনের জুনে লর্ডসে কীভাবে ফাইনাল হবে আদৌ হবে কি না, সেটি নিয়ে টেস্টপ্রেমীরা যেমন চিন্তিত, তেমনি বাংলাদেশ ভাবছে নিজেদের অংশটুকু নিয়ে।

করোনাকালে যেসব সিরিজ বাদ হয়েছে তার অন্তত চারটি পর্বে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল। ২০২০ সালে যেখানে মোট ১০টি টেস্ট খেলার কথা ছিল, বছর শেষে সেখানে মাত্র দুই টেস্ট খেলেই তৃপ্ত থাকতে হবে মমিনুল হকদের।

রয়টার্স সোমবার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ মোট ৬টি টেস্ট সিরিজের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি আইসিসি। এই সিরিজের পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দেয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। আবার কয়েকটি দেশ বলছে, সময় বাড়িয়ে ম্যাচগুলো আয়োজন করা হোক।

চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ দলের ভেতর বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবার শেষে। ২ সিরিজে একটি ম্যাচও জেতা হয়নি। স্থগিত হওয়া সিরিজগুলো থেকে অর্ধেক পয়েন্ট পেলে তাই পয়েন্টের খাতায় কিছু যোগ হতে পারে। কিন্তু ক্ষতিটা হবে ক্রিকেটীয়।

এমনিতে বাংলাদেশ খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। এবার এই ম্যাচগুলো আর না হলে আক্ষেপ বাড়বে। তরুণ যে ক্রিকেটাররা আছেন, তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের অপেক্ষা বাড়বে।

গত জুনে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন, ‘খেলার প্রেক্ষাপটে ক্ষতিটা অনেক বড়। দুটি বড় সিরিজ আয়োজনের যে সুযোগ ছিল, সেটা আর হলো না।’

বিসিবি বলছে আইসিসি সময় বাড়ালে তারা রাজি থাকবেন, ‘আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্র আর না বাড়ালে স্থগিত হয়ে যাওয়া সূচি পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হবে না। আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির ওপর নির্ভর করবে এসব টেস্টের ভাগ্য। যদি চক্র বাড়ে, তাহলে আমরা সময় বের করে নেব।’

সমস্যাটা যেহেতু সবার, বিসিবিকে এই বাস্তবতা মেনে নিতেই হচ্ছে, ‘আইসিসি যখন এই ফর্মুলা (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ) দেয়, আমরা সেটা সমর্থন করি। এতে আমাদের টেস্টসংখ্যা বাড়ে। এমনিতে টেস্ট সিরিজ খুব একটা লাভজনক হয় না। সে ক্ষেত্রে আমাদের আর্থিক ক্ষতি খুব বেশি নয়। ক্ষতি হচ্ছে খেলার।’