গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোমবার সকালে আতিকুর রহমান (২২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আতিকুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকার আজাহার আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সোমবার সকালে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে তিন মাস পূর্বে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আজাহার আলীর ছেলে আতিকের নেতৃত্বে তিনজন মিলে একই উপজেলার বরাব গ্রামের স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে আতিকের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ফিল্মি স্টাইলে বিবাহের গল্প সাজিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা-মা আতিকের বাড়িতে গেলে তাদের জানানো হয় যে, আতিক ও স্কুলছাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনার তিন মাস পর গত রবিবার সকালে কথিত স্বামী আতিক ও তার পরিবার স্কুলছাত্রীকে মারপিট করে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়। মেয়ের কাছ থেকে এ ঘটনা জানতে পেরে স্কুলছাত্রীর বাবা-মা এলাকার মাতুব্বর নিয়ে আতিকদের বাড়িতে গেলে তারা বিবাহের কোন কাবিননামা দেখাতে পারেনি।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী আতিকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
অপর দিকে, গাজীপুরের শ্রীপুরে ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে (১৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আটক কিশোর শ্রীপুরের পটকা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানায়, শুক্রবার বিকেলে শ্রীপুরের পটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে যায় ওই শিক্ষার্থী। এ সময় চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে অভিযুক্ত কিশোর পাশের শালবনে নিয়ে ধর্ষণ করে। রবিবার সকালে প্রস্রাব করতে গিয়ে ব্যথায় কান্নাকাটি করলে জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশুর বাবা-মাকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়। ঘটনাটি প্রতিবেশীদের মাধ্যমে রবিবার রাতে শ্রীপুর থানা-পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ ওই রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতেই ভিকটিমের বাড়িতে হামলা চালায়।
শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, এ ঘটনায় সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ওই শিশু শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।