ইমপিটিগো ত্বকের এক ধরনের সংক্রমণ। শিশু, তরুণ এবং যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। ইমপিটিগোর সাধারণ লক্ষণ হলো ফোসকা। যা সাধারণত মুখ এবং নাকের চারপাশে শুরু হয়। অবশেষে হাত, পা এবং অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইমপিটিগোর তিনটি ধরন রয়েছে। যেমন নন-বুলস ইমপিটিগো, বুলস ইমপিটিগো এবং অ্যাকথিমার। নন-বুলস ইমপিটিগোকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রাস্টেড ইমপিটিগো’ বলা হয়। দেখতে ছোট ছোট লাল ফোসকা গুচ্ছ। শুরুতে মুখে দেখা যায়। বুলস ইমপিটিগো সাধারণত ঘাড়ে ও উরুতে হয়। অ্যাকথিমার ত্বকে ফোসকার মতো পড়ে। আর এ ধরনের ফোসকায় ব্যথা হয় এবং পুঁজ-ভরা থাকে। অ্যাকথিমার সবচেয়ে খারাপ সংক্রমণ। দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
লক্ষণ
শুরুতে নাক এবং মুখের চারপাশে হয়। দেখতে অনেকটা ছোট লাল ফোসকার মতো। ফোসকাগুলো ছোট পিম্পলের আকারে থাকে। পরবর্তীতে ফোসকাগুলো কালো হয় আর বড় হতে থাকে। চুলকানিও বেড়ে যায়। ইমপিটিগোতে আক্রান্তদের হালকা জ্বর, বমি বমি ভাব দেখা যায়। ইমপিটিগো সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা সাধারণত ডে কেয়ার সেন্টার এবং ক্লাসরুমের মাধ্যমে একজনের মাধ্যমে অন্যজনের দেহে ছড়ায়। ডায়াবেটিস বা দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন ব্যক্তিদের হতে পারে। সেলুলিটিস, মেনিনজাইটিস এবং কিডনির প্রদাহ আছে তাদেরও হতে পারে।
চিকিৎসা
ইম্পেটিগোর চিকিৎসা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ডার্মাল অয়েন্টমেন্ট, লোশন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
প্রতিরোধে করণীয়
ছোট বাচ্চাদের সঠিকভাবে এবং সময়মতো হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
নিয়মিত নখ কাটা ও পরিষ্কার রাখা।
নিয়মিত গোসল ও কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। ঘামে ভেজা বা ভেজা শরীরের দীর্ঘসময় না থাকা।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুষম খাবার খাওয়া।
সিনথেটিক পোশাকে যাদের এলার্জির সমস্যা হয় তারা এ ধরনের পোশাক এড়িয়ে যাবেন।