চট্টগ্রামে সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার অপহরণ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি নিজেই থানায় হাজির হয়ে অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার বিকেলে এ মামলা দায়ের করেন।
এর আগে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে অপহরণ ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা দেন গোলাম সরওয়ার।
মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অপহরণর শিকার গোলাম সরওয়ার তার স্ত্রী ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে মামলার এজাহার দিয়েছেন। এতে তিনি নিউজ প্রকাশের জের ধরে তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই গোলাম সরওয়ারকে নিয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে যারা তার স্ত্রীর কাছে ফোন করে মুক্তিপণ চেয়েছিল তাদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি মহসিন।
এর আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বুধবার দুপুর দুইটায় সরাসরি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) কার্যালয়ে যান গোলাম সরওয়ার। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে অপহরণ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
এ সময় তিনি বলেন, অপহরণকারীরা তাকে চার দিন একটি ঘরে চোখ বেঁধে জিম্মি করে রেখেছিল। এ সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন চালানোর সময় অপহরণকারীরা বলতো- আর নিউজ করবি কিনা বল? আমি ওদের বারবার বলেছি, আমি আর নিউজ করবো না। আমরা মা আছে, স্ত্রী আছে, ছোট ছোট দুইটি বাচ্চা আছে, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন। এ সময় ওরা বলাবলি করছিল, এটাকে স্যাম্পল হিসাবে নিয়েছি। মেরে ফেলার দরকার নেই, সাইজ করে দাও।
তিনি বলেন, ওরা ইচ্ছেমতো পিটিয়ে বলেছে-আর নিউজ করবি কি-না বল? আমি ওদের বারবার বলেছি, নিউজ করবো না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন। তারপরও পিটিয়েছে। চোখে হাত দিতে দেয়নি। ওরা বলাবলি করছিল, এটাকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়েছি। মেরে ফেলার দরকার নাই। সাইজ করো।
সরওয়ার বলেন, তারা কোন নিউজের কথা বলছিল তা জানায়নি। তবে আমি আমার অনলাইন পোর্টালে বেশ কয়েকটি নিউজ করেছিলাম। একবার অজ্ঞাত এক লোক আমাকে ফোনে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘সরওয়ার নিউজগান গরি ভালা ন গর’ (অর্থাৎ নিউজটা করে ভাল করোনি)।
অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ফোনের কললিস্ট চেক করলে এদের শনাক্ত করা যাবে।
সরওয়ারের বর্ণনা মতে, গত বুধবার রাত বারোটার দিকে তিনি নগরীর ব্যাটারি গলির বাসা থেকে বের হন চন্দনাইশের গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে। এ সময় গুলশান ক্লাবের কাছে তিনি শাহ আমানত ব্রিজ যাওয়ার জন্য একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে ওঠেন। কিছু দূর যাওয়ার পর চালক গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে এক লোক এসে পেছনে বসে তার চোখে মুখে কিছু একটা লাগিয়ে দেন এবং কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলেন। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। প্রায় ঘণ্টা খানিক পর হুঁশ আসলে তিনি সাইরেন শুনে বুঝতে পারেন যে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে আছেন। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, গোলাম সরওয়ার সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং সিটি নিউজ নামে একটি অনলাইন পোর্টালের নির্বাহী সম্পাদক। তার নিখোঁজের ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর সিএমপির কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন আজকের সূর্যোদয়ের সহকরী সম্পাদক জুবায়ের সিদ্দিকী। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর রোববার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় তাকে একটি খালের কাছে ফেলে দেয় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বুধবার তিনি ছাড়া পান।