কে বসবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারে– এ নিয়ে সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। হাইকোর্টের আদেশ পেয়ে গত সোমবার দলবল নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিন পরিষদের চেয়ার দখল করে দুই দিন অফিস করেন।
পরে জোর করে চেয়ার দখল করা হয়েছে উল্লেখ করে গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে দলবল নিয়ে চেয়ার দখলে নেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন গঠন। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত নির্বাচনে সোনাগাজী সদর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল আরেফিন। ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
জেলা প্রশাসক ওযাহিদুজ্জামান অভিযোগ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম জাকারিয়াকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে গত জুনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী গত ৬ অক্টোবর চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। পরে জেলা প্রশাসক ৭ অক্টোবর ইউপি সদস্য ইমাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেন। এদিকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে সামছুল আরেফিন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
২২ অক্টোবর বিচারপতি খসরুজ্জামান ও মাহমুদুল হাসান তালুকদারের দ্বৈত বেঞ্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। গত রবিবার সামছুল আদেশের লিখিত অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে পরদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে রুটিনমাফিক কাজ শুরু করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোরপূর্বক তাকে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ এবং নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় জিডি করেন। সকালে দলবল নিয়ে পুনরায় পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের কাজকর্ম শুরু করেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের আদেশে তিনি দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। হাইকোর্টের আদেশের পর জেলা প্রশাসক যদি তাকে সরে যেতে চিঠি দেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। তার আগে তাকে দায়িত্ব থেকে জোরপূর্বক সরানোর অধিকার চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিনের নেই।
চেয়ারম্যান সামছুল জানান, হাইকোর্ট তাকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছে। তিনি বৈধ চেয়ারম্যান। বৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জোরপূর্বক সরানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।
জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সামছুল আরেফিনকে বরখাস্ত করে ইমাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করেছি। হাইকোর্টের বরখাস্তের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে এলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। তার আগ পর্যন্ত ইমাম হোসেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।