বিতর্কিত কথা বলতে জুড়ি নেই তার। ঘণ্টায় ঘণ্টায় মিথ্যা কথা বলার রেকর্ডও আছে তার নামে। সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারের নির্বাচনে গতবারের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। তিনি এতটাই বেশি ভোট পেয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া বারাক ওবামার রেকর্ড ভেঙে ফেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে ওবামার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও ফক্স নিউজের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ৬ কোটি ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ২৮২ ভোট; যা মোট ভোটের ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৬ সালে তিনি পেয়েছিলেন ৬ কোটি ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ ভোট। আর ২০০৮ সালে বারাক ওবামা পেয়েছিলেন ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৬ ভোট। এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ ভোট গোনা বাকি আছে। তাই ধরা হচ্ছে, বাইডেনের পাশাপাশি ট্রাম্পও ওবামার রেকর্ড ভাঙবেন।
ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২১৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। ম্যাজিক ফিগার ২৭০টি পেতে হলে জর্জিয়া (১৬), নর্থ ক্যারোলিনা (১৫), পেনসিলভানিয়া (২০) ও অ্যারিজোনা (১১) বা নেভাদায় (৬) জয় পেতে হবে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী জর্জিয়ার সব ভোট গণনা হবে, ফলে রাতভর গণনা চলবে। সেখানে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে সবশেষ ২৪ হাজার ভোটে এসে ঠেকেছে।
নেভাদায় বাইডেন ভোট পেয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৫২টি। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬০৫টি। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান মাত্র ৭ হাজার ৬৪৭। আর শতাংশের হিসাবে এই ব্যবধান শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু এই অঙ্গরাজ্যে এখনো ভোট গণনা বাকি প্রায় ১৪ শতাংশ। মার্কিন বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ফলাফল নির্ধারণে এই ভোট প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ফলাফল যেকোনো দিকেই ঘুরে যেতে পারে।
পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের ব্যবধান আরও কমেছে। সেখানে ৯০ শতাংশ ভোট গোনা শেষ হয়েছে বলে খবর। ট্রাম্প ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। অ্যারিজোনায় বাইডেন প্রায় ৮০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। নর্থ ক্যারোলিনায় বেশির ভাগ ভোট গণনা শেষ হয়েছে, তবে এখনো অল্প কিছু বাকি। ৭৭ হাজার ভোট নিয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প কেন এত ভোট পান, তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের অন্ত নেই। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি বিশ্বরাজনীতির নানা হিসাবনিকাশ অনেকেই দেখিয়ে থাকেন। এসব এক পাশে সরিয়ে রেখে ড্যান পি. ম্যাকএডামস দ্য আটলান্টিকে লেখা কলামে কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছেন, যার সবটাই মনস্তাত্ত্বিক। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর এবং ডোনাল্ড জে ট্রাম্প. অ্যা সাইকোলজি রেকনিং বইয়ের এই লেখক বলেছেন, ‘ট্রাম্প মূলত বর্ণচোরা মানুষ। ভেতরে-ভেতরে ভীষণ একা। স্বভাবে ব্যবসায়ী। তাকে আপনি কৌতুক অভিনেতা ভাবতে পারেন। ট্রাম্প নিজেও সেটা জানেন। আর এখানেই তার সার্থকতা।’
‘তার মারাত্মক সব ভুল কিংবা অপরাধকেও মানুষ কৌতুক মনে করে। গুরুত্ব দেয় না। তাতে সব ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায়। জনপ্রিয়তা কমে না।’ ‘ট্রাম্প যেসব কাজ করেন, যেভাবে কথা বলেন, ওবামা কিংবা বাইডেন এর শতভাগের এক ভাগ করলে কী অবস্থা হবে একবার ভাবুন।’ ট্রাম্পের এত ভোট পাওয়ার রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসী মনজুর চৌধুরী লিখেছেন, ‘ট্রাম্পকে আমরা যতই গালাগালি করি না কেন, নিজের লোকেদের কাছে তার যথেষ্ট চাহিদা আছে। লোকে ভাবে, তার মতো লোককে মানুষ কেন ভোট দেয়? বিশেষ করে শিক্ষিত শ্রেণির লোকেরা। আমাদের দেশেও এমন অনেকে আছেন, তারা নির্বাচিত হয়ে এমপি হন। এখানেও ঘটনা একই। যে যার স্বার্থ দেখে। ভোটের রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে এই সমস্যায় জর্জরিত।’