মাঝে অনেক দিন ক্যারিয়ারে খরা চলছিল। ঠিক যখন বলিউডে স্বজনতোষণ নিয়ে বিতর্কে চূড়ান্তে তখন জানা গেল, অভিষেক বচ্চনের হাতে রয়েছে পরপর সিনেমা। লকডাউনে মুক্তি পেয়েছে তার প্রথম ওয়েব সিরিজও।
স্বজনতোষণ নিয়ে বলিউডে আলোচনা অনেক পুরোনো। সম্প্রতি অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনার ধুম পড়ে। এবার বিষয়টি নিয়ে মনের কথা শেয়ার করেছেন অভিষেক বচ্চন।
অমিতাভ বচ্চন নাকি জীবনে কোনো দিন কাউকে তার জন্য ছবি করার অনুরোধ করেননি। বাবার নাম নিয়ে কোনো কাজও পাননি অভিষেক। ছেলেকে লঞ্চ করার বা এমনিতেই কোনো ছবি প্রযোজনাও করেননি বিগ বি। উল্টো ‘পা’ ছবিটি অভিষেক নিজে অমিতাভের জন্য প্রযোজনা করেছিলেন।
তার কথায়, “আসল বিষয়টা হলো, কোনো দিন বাবা আমার জন্য কাউকে ফোন করেনি। একটা ছবিও আমার জন্য তৈরি করেনি। তবে আমি ‘পা’ বাবার জন্য প্রযোজনা করেছিলাম।”
অভিষেকের ভাষ্যে, “আমি জানি কখন আমার ছবি চলে না, জানি কোন কোন ছবি থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, জানি কোন ছবিগুলো আমাকে নিয়ে হবে বলেও হয়নি, এমনও হয়েছে আমি ভেবেছি ছবি প্রযোজনা করব, কিন্তু টাকা না থাকায় করতে পারিনি। অমিতাভ বচ্চনের ছেলে মানেই মুখে রুপার চামচ নয়।”
কিন্তু বলিউডে এমন কথাও প্রচলিত আছে— ছেলের নড়বড়ে ক্যারিয়ার শক্ত করতে পরিচালককে শর্ত দিয়েছিলেন অমিতাভ।
২০০২ সাল, তখন সবে সিনেমায় নেমেছেন অভিষেক। কয়েকটা ছবি করলেও বাবার নামেই তার পরিচিতি। আলাদা করে কিছুতেই নিজের নাম প্রমাণ করতে পারছেন না। এ দিকে অমিতাভও নাছোড়বান্দা।
ঠিক ওই সময় প্রযোজক বনি কাপুর অমিতাভ বচ্চনকে তার একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য অনুরোধ করেন। বাকি অভিনেতারা ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই, বিবেক ওবেরয় ও দিয়া মির্জা। ছবির নাম ‘কিউ হো গ্যায়া না’।
ওই সময় আবার ঐশ্বরিয়া ও বিবেকের প্রেমের গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে। অমিতাভ প্রযোজকের মুখের ওপর ‘না’ বলে দেন। বনিও ছাড়ার পাত্র নন। তিনি বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। অনেক অনুরোধের পর রাজি হন অমিতাভ। কিন্তু একটি শর্ত দেন তিনি।
কী সেই শর্ত? অমিতাভ বলেন, বনি যদি পরবর্তী ছবিতে অভিষেককে কাস্ট করেন তবেই অভিনয় করবেন তিনি। বনির কাছেও কোনো উপায় ছিল না। অমিতাভকে নিয়ে তার কাজ করার ইচ্ছা ছিল অনেকে দিনের। বাধ্য হয়েই শর্তে রাজি হয়ে যান।
অমিতাভকে কথা দেন পরবর্তী ছবি ‘রান’-এ অভিষেককে কাস্ট করবেন। কিন্তু হায়! ‘কিউ হো গ্যায়া না’ বক্স অফিসে চূড়ান্ত অসফল। এমনকি ‘রান’-এও অভিষেকের অর্জন প্রায় ছিলই না। বরং লাইমলাইট ছিনিয়ে নেন পার্শ্ব চরিত্র ‘কাউয়া বিরিয়ানি’ অর্থাৎ বিজয় রাজপুরি। পঙ্কজ ত্রিপাঠির অভিনয়ও পছন্দ করেন দর্শকেরা।
‘রান’ হিট করেনি ঠিকই, তবে এরই হাত ধরে অভিষেকের কাছে আসে মনি রত্নমের ‘যুবা’র অফার। ওই ছবির রানি মুখার্জি ও অভিষেক বচ্চনের পারফর্ম করা ‘কাভি নিম নিম’ গানটি এখনো সিনেমাপ্রেমীদের মনে রয়ে গেছে।
২০০০ সালে পরিচালক জে পি দত্তার ‘রিফিউজি’ ছবিতে বলিউডে পা রাখেন অভিষেক। দুই দশকে নানান স্বাদ ও মেজাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার ঝুলিতে রয়েছে যুবা, সরকার, কাভি আলভিদা না ক্যাহেনা, গুরু, বান্টি আউর বাবলি, ঝুম বরাবর ঝুম, দোস্তানা, বোল বচ্চন, পা, ধুম, মনমর্জিয়া’র মতো ছবি। গত ৩০ জুন বলিউডে দুই দশক সম্পূর্ণ করেছেন অভিষেক। মুক্তির অপেক্ষায় আছে লুডো, বিগ বুল ও বব বিশ্বাস।