মেহেরপুর সমাজসেবা কার্যালয়ে ২ সাংবাদিককে মারধর, ক্যামেরা ভাঙচুর

মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ সময় তাদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ায় কবি নজরুল ইসলাম স্কুলের সামনে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দুই সাংবাদিক হলেন– বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি আবু আক্তার করণ ও অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশ রয়টার্সের জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন।

এ ঘটনায় করণ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) আব্দুল কাদের, অফিস স্টাফ সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক মিলনসহ অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় জিডি করেছেন।

করণ জানান, অফিসের তেল চুরি করে পাচার, সরকারি গাড়ি নিয়ে জেলার বাইরে ঘুরতে যাওয়া, অফিস অভ্যন্তরে একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করে বাসা ভাড়ার সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ অনৈতিক কার্যকলাপ ও দুর্নীতির বিষয়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা সমাজসেবা অফিসে যান তিনি। অনুমতি নিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অফিসের কিছু স্টাফ তাদের ওপর চড়াও হন।

একপর্যায়ে স্টাফরা তাকে জাপটে ধরে এবং ডিডি নিজে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এই সময় স্টাফরা পকেট থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময় সহকর্মী জাকির হোসেন উদ্ধারে এগিয়ে গেলে ডিডিসহ তিনজন তাকেও অফিসের একটি কক্ষে আটকে রেখে কিলঘুষি মারেন এবং তার হাতে থাকা ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।

পরে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাটি সদর থানার ওসি শাহ দারাকে জানালে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করেন।

ডিডি আব্দুল কাদের জানান, সরকার তাকে গাড়ি দিয়েছে ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য। সরকারি কাজে গাড়ি নিয়ে অন্য জেলায় যেতে কোনো আইনি বাধা নেই। সরকার গাড়ি দিলেও ড্রাইভার দেননি। তাই ব্যক্তিগত ড্রাইভার দিয়ে তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। আর গাড়ি নিয়ে বাইরে গেলে বেশি তেল লাগবেই।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও বাড়ি খুঁজে না পাওয়ায় আমি অফিসের একটি কক্ষে থাকি। হিজড়াদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ ও নারী কেলেঙ্কারি এসব অভিযোগ সত্য নয় বলেও জানান আব্দুল কাদের।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা উত্তেজিত হওয়ার ছবি ক্যামেরাবন্দি করলে আমি রেগে গিয়ে ক্যামেরা কেড়ে নিই। তবে ভাঙচুর করিনি। সাংবাদিকদের গায়ে স্টাফরা হাত দিলেও তেমন মারধর করেনি।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খাঁন জানান, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় সরাসরি মামলা নেওয়ার আইনি জটিলতা রয়েছে। ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে ডিডিসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে এবং অজ্ঞাত ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি হয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী জানান, মামলা নেওয়া যাবে না। জিডি হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলায় রূপ নেবে। তবে উভয়পক্ষ বসে আপস করা ভালো হবে।