ভারতে রাজধানী দিল্লির একটি অভিজাত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ কিনতে না পেরে হত্যা করেছেন।
এই মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ আখ্যায়িত করে বিক্ষোভে নেমেছে বেশকিছু সংগঠন।
বিবিসি বাংলা জানায়, ঐশ্বরিয়া রেড্ডি নামে নিম্নবিত্ত ঘরের মেধাবী ওই ছাত্রী সরকারি বৃত্তি পেলেও গত মার্চ মাস থেকে সেই অর্থ তার হাতে পৌঁছায়নি। কলেজের অনলাইন ক্লাস করার জন্য স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ কেনার সঙ্গতিও তার পরিবারের ছিল না।
করোনাভাইরাস লকডাউন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ‘ডিজিটাল বৈষম্য’ তৈরি করেছে, ওই ছাত্রীকে অনেকেই তার মর্মান্তিক শিকার বলে মনে করছেন।
দিল্লির লেডি শ্রীরাম বা এলএসআর কলেজ দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সোমবার বিকেলে সেখানে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন।
গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ঐশ্বরিয়ার সহপাঠিনী গরিমা কাপুরের কথায়, ‘লকডাউনে এ দেশের মেহনতি মানুষের জীবন যেভাবে তছনছ হয়ে গেছে, ঐশ্বরিয়াও তার এক করুণ দৃষ্টান্ত।’
‘ওর বাবা-মা দুজনেই গরিব দিনমজুর। লকডাউনে তাদের রোজগারপতি বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়ের অনলাইন পড়াশোনার খরচও তারা টানতে পারছিলেন না’ যোগ করেন তিনি।
তেলেঙ্গানার রঙ্গা রেড্ডি জেলার মেয়ে ঐশ্বরিয়া উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছিল রাজ্যের সেরা শিক্ষার্থীদের একজন, পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বৃত্তিও।
দরিদ্র মোটর মেকানিক বাবা ও সেলাইয়ের কাজ-করা মা তারপরও ধারকর্জ করে মেয়েকে দিল্লি পড়তে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের শুরুতেই হোস্টেল বন্ধ হওয়ায় তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়।
ঐশ্বরিয়ার বাবা বলেন, ‘ঠিকমতো অনলাইন ক্লাস করার জন্য একটা পিসি বা ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না। মেয়েও স্বভাবতই অবসাদে ভুগতে শুরু করে। ওর পড়াশোনার খরচ জোটাতে আমি আগেই বাড়ি বন্ধক রেখেছিলাম।’
বামপন্থী সংগঠন এআইডিডাব্লিউএ-র নেত্রী মাইমুনা মোল্লা বলছিলেন, ‘মাসের পর মাস কেটে গেলেও বৃত্তির টাকা ঐশ্বরিয়ার হাতে পৌঁছায়নি। আর সে কারণেই এটাকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড বলছি।’