জুলাই-অক্টোবর

ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কমেছে

তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪৫ কোটি টাকা কম ঋণ নিয়েছে।

জুলাই-অক্টোবর সময়ে সরকার ঋণ নিয়েছে ৩৫ হাজার ১৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া  ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫ কোটি টাকা। গত মাসে এ অঙ্ক নেমেছে ২০ হাজার ৪৭ দশমিক ৪৪ কোটি টাকায়। কিন্তু তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২০ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যাংকাররা বলছেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে। সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য বিনিয়োগে সুদহার বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখার পরিবর্তে এগুলোয় বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে ব্যাংক খাতে আগস্টে গড় আমানতের হার এযাবৎকালে সবচেয়ে বেশি কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিক্রি হয় ১১ হাজার ৬৬২ দশমিক ৩২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময় ছিল ৪ হাজার ৬৯৮ দশমিক ১ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তহবিল পেয়েছে সরকার। ফলে কেবল ব্যাংক খাতে নির্ভর না করেই সরকার অর্থ ঘাটতি পূরণে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে টাকা দেওয়ায় অর্থবাজারে তারল্য কমে যাবে। তারল্য কমলে তা মূল্যস্ফীতি কমাতে ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর  বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংককে সরকারের অর্থ প্রদানের বিষয়টি ইতিবাচক। এতে তারল্য কমবে। তারল্য কমার প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে।

তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা শিথিল করা ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য ছিল। রিজার্ভ বৃদ্ধির বিপরীতে অর্থবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ছেড়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা হওয়ার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সরকারের ব্যয় কমেছে। এতে কমেছে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার হার কমেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোয় কিছু বিদেশি অর্থ সহায়তা পেয়েছে সরকার। এতে নিজস্ব তহবিল থেকে সরকার ব্যয় করতে সক্ষম হওয়ায় কমেছে ব্যাংকঋণ, যোগ করেন আহসান এইচ মনসুর। তব আগামী মাসগুলোয় সরকারকে বেশি ব্যয় করতে হলে ঋণের অঙ্কও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে স্থানীয় উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা আছে।