সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হলেও জীবন-যাপন ও ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি খবরের কাগজ বিক্রেতা ‘খুকি আপার’।
জানা যায়, সম্প্রতি তার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা ছিল ২০০৯ সালের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন। কিন্তু ওই ভিডিওটি প্রচারের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কেউ আর তার আর খোঁজ নেননি, ভাগ্যও ফেরেনি।
কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও রাজশাহী শহরের এই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১ বছর পর আবার ফিরে এসেছেন। স্থানীয়দের কারুর কাছে তিনি আধা খুকি, কারু কাছে খুকি আপা।
ওই ভিডিও থেকে জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবা-মা, ভাই বোনেরা অবহেলা করলে তার ঠাঁই হয় রাস্তায়। তবে পথে পড়ে থাকলেও ভিক্ষায় নামেননি এই আত্মমর্যাদা সম্পন্ন নারী। একদিন রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মানিব্যাগ উপযুক্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিয়ে পুরস্কার হিসেবে পান ১৫০ টাকা। সে টাকা দিয়েই পথে, স্টেশনে, বাসাবাড়িতে খবরের কাগজ বিক্রি করে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন।
পেপার বিক্রি করে দৈনিক ২০০/৩০০ টাকা আয় করেন, তার থেকে নিজের জন্য খরচ করেন মাত্র ৪০ টাকা, ১০০টাকা এতিমদের জন্য, বাদবাকি কিছু টাকা মসজিদ-মন্দিরে দান করেন, এবং পথে থাকা অন্য ভিক্ষুকদের জন্য ২০ টাকা দেন। তার স্বপ্ন ছিল হজে যাবেন তার জন্য তিনি নিজে কিছু করে জমাচ্ছেন।
সেদিনের মধ্যবয়সী খুকি আজ বৃদ্ধা, এখনো তিনি পেপার বিক্রি করেই জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন। তার হজে যাওয়ার অর্থ জোগাড় হয়নি।
ওই ভিডিওতে তার শেষ কথাগুলো ছিল- ‘কেউ আমাকে এক পয়সার হেল্প করেনি। কি হবে এই সাক্ষাৎকার নিয়ে। কেউ তো আমাকে সাহায্য করবে না’।
এগারো বছর পর সেই আধা পাগল খুকির কথাগুলোই সত্য হলো। কেউ তাকে সাহায্য করেনি!