দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা হঠাৎ বেড়েছে। পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করোনা রোগী শনাক্তও বেড়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় গত দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৭ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৪৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে পরীক্ষার এই সংখ্যা গত ১৩৩ দিন বা প্রায় সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে বেশি পরীক্ষা হয়েছিল। এ ছাড়া গতকাল নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত ৬৩ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর এরচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে এদিন পরীক্ষা ও শনাক্ত বাড়লেও শনাক্তের হার বাড়েনি। অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ১৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এদিকে গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আড়াইশ দিন অতিবাহিত হয়েছে। গতকাল ২৫০তম দিনে দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব পরীক্ষায় দেশের প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০৮ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১১৫টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৬ হাজার ৯৬৮টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৭ হাজার ১১২টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৪৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৭৩৭ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৫ লাখ ১ হাজার ৮০০টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ১৪০ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ ও সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৯ ও নারী ৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮, রংপুরে ২ এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৯ এবং ৫১-৬০ বছরের ছিল ৪ জন। ১৩ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৭২৮ ও নারী ১ হাজার ৪১২ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৭ ও নারী ২৩ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২১৩ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ২০৯, খুলনায় ৪৮০, রাজশাহীতে ৩৭৫, রংপুরে ২৭৩, সিলেটে ২৫৭, বরিশালে ২০৫ ও ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ১২৮ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭৭ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৭৮৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ১৭৭ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৫৭৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৯ হাজার ৬৬১টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৪৫৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫৩৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৯৬টি।