শুধু অভিনেতাই হতে চেয়েছিলেন আসিফ

আত্মহত্যার খবরে আবারও চমকে উঠেছে বলিউড। বৃহস্পতিবার দুপুরে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার বাড়ি থেকে অভিনেতা আসিফ বাসরার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

অভিনয়ের টানে নিশ্চিত চাকরি জীবন ছেড়ে মঞ্চে পা রাখেন আসিফ। তার পর ধীরে ধীরে যাওয়া। নায়ক না হয়েও উল্লেখ চরিত্র পেয়েছিলেন অনেক ছবিতে। তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বলিউডের অনেকে।

মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর সাধারণ পরিবারের ছেলে আসিফ, জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৭ জুলাই। স্কুলের দিনগুলো থেকেই তার স্বপ্ন, এক দিন অভিনেতা হবেন।

অমরাবতীতে স্কুলজীবন কাটিয়ে চলে আসেন মুম্বাইয়ে। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন আসিফ। একটা কাজও জুটিয়ে ফেলেন। বেতনের প্রায় পুরো টাকাই খরচ হয়ে যেত নাটক আর সিনেমার টিকিটে।

১৯৯১ সালে প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব সেলিম গোসের সংস্থার নাটক ‘বোসম্যান অ্যান্ড লেনা’ দেখেন আসিফ। এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান, এক সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে তিনি এই নাটকটা দেখতেন। ক্রমে সেলিমের সঙ্গে আলাপ হয় অসিফের। পা রাখেন থিয়েটার জগতে। পরবর্তীতে সেলিমের পরিচালনায় শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটকে হোরেশিয়োর ভূমিকায় অভিনয় করেন।

চাকরির পাশাপাশি থিয়েটারের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দু তিন ভাষাতেই কাজ করেন। ‘মহাত্মা ভার্সেস গান্ধী’ এবং ‘ম্যায়ঁ ভি সুপারস্টার’ নাটকে আসিফের অভিনয় প্রশংসিত হয়।

পুরো সময়টাই থিয়েটারকে দেবেন বলে ১৯৯৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন আসিফ। অভিনয়ের পাশাপাশি পৃথ্বী থিয়েটারে তরুণদের প্রশিক্ষণও দিতেন। অথচ নিজের কোনো প্রথাগত অভিনয়-প্রশিক্ষণ ছিল না। প্রতিভাই ছিল তার সম্বল।

আসিফকে ছোটপর্দায় প্রথম দেখা যায় ১৯৯৮ সালে। অভিনয় করেছিলেন ‘ওহ’ টেলিফিল্মে। এর ৫ বছর পর বড় পর্দায় আসেন ‘রুলস: প্যায়ার কা সুপারহিট ফর্মুলা’ ছবিতে।

বাণিজ্যিক ছবির মূলস্রোত ও সমান্তরাল ধারা, দুই দিকেই আসিফ হয়ে ওঠেন নির্ভরযোগ্য নাম। ব্ল্যাক ফ্রাইডে, পারজানিয়া, ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বাই ছবিতে বলিষ্ঠ অভিনয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকদের মনে। আরও দেখা গেছে মিক্সড ডাবলস, জাব উই মেট, লামহা, কাই পো চে, নক আউট, কৃষ থ্রি, এক ভিলেন, মঞ্জুনাথ, হিচকি, ফ্যানি খান ও স্যাটেলাইট শঙ্করে।

বলিউডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ছবিতেও অভিনয় করেন আসিফ। তাকে দেখা যায় ব্রিটিশ-ফরাসি-জার্মান ছবি ‘কুইকস্যান্ড’-এ।

সম্প্রতি পাতাল লোক ও হস্টেজেস ওয়েব সিরিজে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

গত ৬ বছর ধরে নাগরিক কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন আসিফ। হিমাচল প্রদেশের আপার ধর্মশালায় ম্যাকলিয়ডগঞ্জে একটি বাড়ি লিজ নেন। বেশির ভাগ সময় থাকতেন সেখানেই। বৃহস্পতিবারও তাকে প্রতিবেশীরা দেখেছেন পোষা কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে। সে দিনই ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।

তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, পোষা কুকুরকে বেঁধে রাখার বেল্টের ফাঁসে আসিফের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিনেতার বাড়িতে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।