ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা যার মাথা থেকে বের হয়েছিল সেই ডমিনিক কামিংস ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কামিংসের এমন সিদ্ধান্ত দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানকে কয়েকজন শীর্ষ কনজারভেটিভ নেতা জানান, জনসনের ইনার সার্কেল লি কেইনের (জনসনের জ্যেষ্ঠ সহযোগী, যিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন) পদোন্নতি আটকে দিলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কথা ছিল কেইন হবেন পরবর্তী চিফ অব স্টাফ। একজন শীর্ষ নেতা সরাসরিই এমন পরিস্থিতির জন্য জনসনকে দায়ী করেন। তার মতে, জনসনের কারণেই ক্যারি সায়মন্ডসের মতো নেতারা কেইনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পেরেছে।
যুক্তরাজ্য একদিকে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি করার শেষ সময়ের কাছাকাছি এসে পড়েছে দেশটি। দেশ যখন করোনায় বেহাল তখন জনসনের ইনার সার্কেলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত। এ দ্বন্দ্বের ফলে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতাকেন্দ্রিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন কামিংস পদত্যাগ করার পর জনসনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসন এখন তার শেষ সুযোগের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে।
কেইনের ঘটনায় এমপিদের কাছে কোণঠাসা হয়েই কামিংস পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। সমালোচকরা বলছেন, জনসন নিজেই চাইছিলেন কেইনের জায়গায় নতুন কাউকে চিফ অব স্টাফ বানাতে, যাতে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রণ তার কাছে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, জনসনের শীর্ষ মুখপাত্র জেমস সø্যাককে চিফ অব স্টাফের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
জনসন তার ইনার সার্কেলে এসব রাজনীতি করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে আলোচনা চালিয়ে যেতে আরও সময় পাওয়ার জন্য। কিন্তু ব্রাসেলস আর জনসনকে সময় দিতে রাজি নয়। জনসন যদি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইস্যুতে কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে না পারেন, তাহলে তাকে পদত্যাগও করতে হতে পারে। আর এ কারণেই জনসন শেষ চেষ্টা হিসেবে নিজের ইনার সার্কেলে পুনর্বিন্যাস করতে চাইছিলেন। কিন্তু এ চাওয়ার ফলে টরি এমপিদের মধ্যে নতুন বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কেইম স্ট্রার্মার এলবিসি রেডিওকে বলেন, ‘আমি মনে করি কয়েক লাখ মানুষ আজ সকালে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলবেন কী ঘটতে যাচ্ছে আসলে? আমরা এখন মহামারীর ঠিক মধ্যবর্তী অবস্থায়। আমাদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে আমরা চিন্তিত। এমনকি আমাদের চাকরি নিয়েও আমরা চিন্তিত। আর এমন সময়ে অনেকেই ডাউনিং স্ট্রিটের দরজার ওপাশ থেকে আমাদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইছে।’