মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শুকুরউল্লাগাঁওয়ের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ঘোড়ামারা-শুকুরউল্লাহগাঁও সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের ধলাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নির্মাণ শেষ হওয়ার চার বছর আগে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৯৬ মিটার আরসিসি গার্ডার। কিন্তু চার বছর পার হলেও এখনো সড়কটি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে কাঁচা সড়কে চরম দুর্ভোগে পড়েন এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী দুই ইউনিয়নে বসবাসকারী লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন।
এলাকাবাসী জানান, এলাকার লক্ষাধিক কৃষক তাদের কৃষিপণ্য নিয়ে পড়েন চরম বিপাকে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও এতদিন এই রাস্তায় দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করেছে। দুই কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। সরকারিভাবে রাস্তাটির কোনো উন্নয়ন কাজ না করায় স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত রাখতে মেরামতের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই রাস্তাটি দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ নিত্যদিন চলাচল করে। এই রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে পাকাকরণ আবশ্যক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল কুমার সিংহ বলেন, মৌলভীবাজার এলজিইডিকে বিষয়টি জানানো হলে তারা এসে রাস্তাটি তিনবার মেপে যায়। কিন্তু গত চার বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি।
মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রাস্তা ও শুকুরউল্লাগাঁও গ্রামের রাস্তা পাকাকরণের জন্য আবেদন করেছি। তবে শুকুরউল্লাগাঁও গ্রামের রাস্তা বড় ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ রাস্তাটি পাকাকরণ ও সংস্কারে বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন ভূঁইয়া বলেন, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে ঘোড়ামারা-শুকুরউল্লাগাঁও সড়ক। এ সড়কটিসহ উপজেলার অন্যান্য রাস্তাঘাটের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।